খুলনায় যুবদল নেতাকে হত্যা: সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে যুবদল নেতা খান মুরাদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শনিবার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
বহিষ্কৃত সাজ্জাদ হোসেন দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আজ দুপুরে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন বলে জানানো হয়।
গতকাল বিকেলে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবদল নেতা খান মুরাদ নিহত হন। উপজেলার সেনহাটি এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সামনে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খান মুরাদ দিঘলিয়া উপজেলার হাজিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ড্রেজার (খনন) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউএনও কার্যালয়ে একটি কাজের দরপত্রকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল বিকেলে মুরাদ খুলনা শহর থেকে নিজ বাড়ি হাজিগ্রামে ফেরার পথে সেনহাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদসহ চার থেকে পাঁচজন তাঁর পথরোধ করে হামলা চালান। আত্মরক্ষার জন্য তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আবার হামলা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, যুবদল নেতাকে হত্যার ঘটনায় মামলা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।