মন্ত্রীর স্বজনের মৃত্যু: সন্দেহভাজনের তথ্য দিলে পুরস্কার দেবে পুলিশ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারী আওয়াল শফিকের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন এই যুবককে খুঁজছে পুলিশ। তাঁকে শনাক্ত করে তথ্য দিতে পারলে পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশছবি: পুলিশের সৌজন্যে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়কের ওপর স্বাস্থ্য সহকারী আওয়াল শফিকের (৪০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় ওই যুবকের ছবি পাওয়া গেছে। তাঁকে শনাক্ত করে তথ্য দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

‘তথ্য দিন, ধরিয়ে দিন। মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় ওই যুবকের ছবি’—এমন লেখা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যুবকের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ঘোষণায় তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সখীপুর–বাসাইল সড়কের নলুয়া বাজারের অদূরে সড়কের ওপর থেকে আওয়াল শফিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন

আওয়াল শফিকের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আওয়াল শফিক উপজেলার বোয়ালী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি যাদবপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল–৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২ সেপ্টেম্বর বুধবার যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কেন্দ্রে দায়িত্ব শেষে দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন আওয়াল শফিক। পথে সাড়ে ১২টার দিকে নলুয়া বাজারের কাছে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

আওয়ালের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হয়। তাঁদের দাবি, সড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকলেও পাশে থাকা মোটরসাইকেলটি অক্ষত ছিল। এ ছাড়া মরদেহের গলায় কাটা দাগ ছিল। আওয়ালের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ থাকার কথাও পরিবারের সদস্যরা জানান।

ওই যুবকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে। ছয় দিন ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছে, কিন্তু তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই যুবকের বিষয়ে তথ্য ও সন্ধান দিতে পারলে পুলিশকে সহায়তা করা হবে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
মামুনুর রশিদ, সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)

সিসি ক্যামেরায় কয়েকটি যানবাহনের তথ্য

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চলছে। সখীপুর থানা–পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ও বাসাইল থানা–পুলিশও তদন্তে কাজ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলের প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানবাহিনী ঘাঁটির মূল ফটক। ওই ফটকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব যানবাহনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাস্থলে থাকা একটি মোটরসাইকেলের আরোহী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মামুনুর রশিদ বলেন, ওই যুবকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে। ছয় দিন ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছে, কিন্তু তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই যুবকের বিষয়ে তথ্য ও সন্ধান দিতে পারলে পুলিশকে সহায়তা করা হবে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হবে।