হলগুলোতে ‘শান্তি’ ফিরলেও অনেক কিছুই ‘আগের মতো’ 

রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে চলছে আবাসিক হল। নির্যাতন ও অপরাধ কমেছে, কিন্তু সাংস্কৃতিক স্থবিরতা ও সেবাসংকট এখনো কাটেনি।

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ‘ভাইয়ের লোক’ না হলে আসন পাওয়া ছিল কঠিন। হলের আসন ভাগ হয়ে যেত ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিলে কিংবা ‘সিনিয়রদের’ নির্দেশ না মানলে গেস্টরুমে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগও ছিল। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত নিয়েও উদ্বেগ ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন আসননীতির মাধ্যমে বিভাগীয় সুপারিশে আসন বরাদ্দ হচ্ছে, কমেছে র​্যাগিং ও রাজনৈতিক প্রভাব। প্রশাসনিক কাজেও এসেছে অটোমেশন। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের নানা প্রত্যাশা থাকলেও অনেক বিষয়েই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। খাবারের মানের উন্নতি হয়নি, চিকিৎসাকেন্দ্র এখনো ভোগান্তির আরেক নাম। সাংস্কৃতিক আয়োজন কমে যাওয়ায় ক্যাম্পাসজীবন হারিয়েছে আগের প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দলীয় পরিচয়ধারী শিক্ষকের পদায়নও চলছে আগের মতোই।

নীতিমালা মেনে আসন বরাদ্দ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রীদের তিনটি করে মোট ছয়টি হলে আসন রয়েছে ২ হাজার ৯৭৭। এর মধ্যে ছাত্রীদের হলের আসন বণ্টন শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষরাই করতেন। তবে ৫ আগস্টের আগে ছাত্র হলগুলোতে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত) মাধ্যমেই আসন বণ্টন করা হতো। প্রাধ্যক্ষ শুধু কাগজেই দায়িত্ব পালন করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী রয়েছেন সাড়ে আট হাজারের বেশি। ৫ আগস্টের পর ছাত্র হলগুলোতে আগের সব আসনের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে কর্তৃপক্ষ। নীতিমালা অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে বণ্টন করা হচ্ছে। বাকি ৪০ শতাংশ আসন শিক্ষার্থীদের অসচ্ছলতা, বাসার দূরত্ব, প্রতিযোগিতাসহ কয়েকটি কোটায় বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে।

হলে আসন বণ্টন কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আসন বণ্টনে স্বচ্ছতার জন্য হল প্রভোস্টদের কাছ থেকে খালি আসনের তালিকা আসে। সেই তালিকা থেকে আনুপাতিক হারে বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়। বিভাগ থেকে সুপারিশ এলে কমিটি তা যাচাই–বাছাই করে আসন বরাদ্দ দেয়।

‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি নেই

৫ আগস্টের আগে ছাত্র হলগুলো ছাত্রলীগের দখলে থাকায় আসন বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘জিম্মি করে’ রাখতেন নেতারা। গ্রুপে কর্মী সংখ্যা বাড়াতে ইচ্ছেমতো ‘গণরুম’ বানাতেন ছাত্রলীগের নেতারা। এসব গণরুমে ৪ জনের জায়গায় ৮ থেকে ১২ জন একসঙ্গে থাকতেন। নানা অজুহাতে গেস্টরুমে নির্যাতন ও র​্যাগ দেওয়া হতো শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গভীর রাতে হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া, মিছিল, বৈঠক আর নেতাদের জন্মদিন উদ্​যাপনের নামে প্রায়ই হলের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতো।

► গত দেড় বছরে আবাসিক হলে নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়নি। ► শিক্ষার্থীরা বলছেন, খাবারের মানে উন্নতি হয়নি, চিকিৎসাকেন্দ্র এখনো ভোগান্তির আরেক নাম।

তবে বর্তমানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। আসন বণ্টনে বিভাগের মাধ্যমে হওয়াতে অছাত্র কিংবা বহিরাগতদের হলে কোনো উৎপাত নেই। গত দেড় বছরে আবাসিক হলে কোনো নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি একাধিক রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের তিনটি হল দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পড়াশোনাতে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ রিডিং রুমে পড়ছেন, কেউ কেউ আড্ডা দিচ্ছেন আর কেউ কেউ রান্নায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানতে চাইলে শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ ফরিদ বলেন, ‘হলে এখন শান্ত পরিবেশ। সবাই যাঁর যাঁর মতো করে চলাফেরা করেন। পড়াশোনা করেন। আগের মতো মধ্যরাতে মিছিল–মিটিং, ঘুম ভেঙে মারামারি—এসব দৃশ্য আর নেই। আমরা এসব আর দেখতে চাই না।’

খাবারের মানের ‘পরিবর্তন হয়নি’

৫ আগস্টের আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের দাপট ছিল হলের ডাইনিং-ক্যানটিনে। খাবারের মান ছিল নিম্নমানের। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ নেতারা ক্যানটিন ও ডাইনিং পরিচালকদের কাছ থেকে খাবারসুবিধা পেতেন। তাই খাবারের মান খারাপ করলেও শিক্ষার্থীদের তেমন কিছুই করার ছিল না। এ ছাড়া কিছু নেতা–কর্মী ‘ফাও’ খেতেন। খাবারের তেমন কোনো বৈচিত্র্যও ছিল না। সম্প্রতি দাম বাড়ানো হলেও খাবারের মান পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ডাইনিংয়ে খিচুড়ি-ছোলা-ডিমের দাম রাখা হয় ৩৫ টাকা। ক্যানটিনে দাম পড়ে ৪০ টাকা। ভাতের সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি বা মাছ খেতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। শুক্রবারে ১০০ টাকায় ব্রয়লার আর ডিম দিয়ে বিরিয়ানি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ক্যানটিনে সম্প্রতি খাবারের মান খারাপ হচ্ছে। খাবারের দামও বেড়েছে। আগে ভাত ছিল ১০ টাকা, বর্তমানে ১৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। আগে ৩০ টাকায় ভাত-মাছ কিংবা মুরগির তরকারি পাওয়া যেত। এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকার নিচে মাছ-মাংস পাওয়াই যায় না। খাবারের মানে কোনো পরিবর্তন নেই; বরং মাঝেমধ্যে প্রশাসন থেকে ডাইনিং ক্যানটিনের পরিচালকদের বলা হলে কিছুদিন তারা উন্নত করে।

তবে খাবারের মান বেড়েছে বলে দাবি প্রায় আট বছর ধরে শাহপরাণ হলে ক্যানটিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কামাল আহমেদের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে বাকি খাইছে, বেসিনে হাত ধুয়ে চলে গেছে। এখন সবাই ঠিকঠাক টাকাপয়সা দিয়ে যান। এখন বাকির সংস্কৃতি নেই, তাই ভালো খাবার পরিবেশন করতে পারছি।’

সহশিক্ষা কার্যক্রমে ‘স্থবিরতা’

৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ছিল। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা আয়োজন করত। তবে ৫ আগস্টের পর সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর এসব আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে।

এর তিনটি কারণের কথা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতবিষয়ক সংগঠন ‘শিকড়’–এর সভাপতি মো. মিনহাজ। তিনি বলেন, সেশনজট নিরসনে প্রথমত, তিন থেকে চার মাসে সেমিস্টার শেষ করা। দ্বিতীয়ত, অনুষ্ঠান আয়োজনে স্পনসরদের অর্থায়নের অনীহা এবং তৃতীয়ত, কিছুটা ‘জুজুর ভয়ের’ কারণে অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ সমস্যাগুলো ছিল প্রবল। তাই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তেমন বড় কোনো অনুষ্ঠান করতে পারেনি।

শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ভালো হলেও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট ফজিলাতুন্নেছা শাপলা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠনগুলোর সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ধীরে কমে যাচ্ছে। এটা শিক্ষার্থীদের একাকিত্বকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

প্রশাসনিক পদে নিয়োগ আগের মতোই

গণ–অভ্যুত্থানের আগে উপাচার্য থেকে হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পদায়ন করা হতো। ৫ আগস্টের পর সেই পদগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের পদায়ন দেওয়া হয়েছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে প্রশাসনিক পদগুলোতে এখন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের পদায়ন করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের একসময়ের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন বলে জানিয়েছেন। সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম বিএনপি–সমর্থিত ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক। কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন জামায়াতপন্থী বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে। সবশেষ ২৩ মে আগের উপাচার্যকে সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দুটি হল প্রাধ্যক্ষ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, সেন্টার অব এক্সিলেন্সিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপি–সমর্থিত ইউট্যাবের পদে, কেউ জিয়া পরিষদে কিংবা কেউ জামায়াতপন্থী ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সদস্য। কেউ কেউ এসবের বাইর থেকেও দলীয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

প্রশাসনিক পদে পদায়নের রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সদ্য সাবেক উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের মেধার ভিত্তিতে পদায়ন করছি। নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই দিকটি প্রাধান্য দিচ্ছি। কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।’

দাপ্তরিক কাজে গতি এসেছে, ‘বঞ্চিত’ চিকিৎসাকেন্দ্র

বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে গতি এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, আপগ্রেডেশন, অবসর—সবকিছুই ‘ক্যারিয়ার সাস্ট’ পোর্টালের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ভর্তি, ক্রেডিট ফি, কোর্সে রেজিস্ট্রেশন ও সেমিস্টারের ফলাফল ‘মাই সাস্ট অ্যাপস/পোর্টালের’ মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের ক্লিয়ারেন্স সেবা, সার্টিফিকেট, মার্কশিট, গ্রেডশিট অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। তবে বর্তমানে আবাসিক হলে ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধস্বল্পতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া সামান্য বিষয়েও চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা শহরের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। গণ–অভ্যুত্থানের পরও একই চিত্র রয়েছে।

অভ্যুত্থানের পরপরই নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, আইআইসিটি ভবন ও সেন্টার অব এক্সিলেন্সি চালু হওয়ায় চার–পাঁচটি বিভাগের শ্রেণিকক্ষসংকট কেটেছে। তবে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ, যন্ত্রকৌশল বিভাগ ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগসহ নতুন বিভাগগুলোতে শ্রেণিসংকট কাটেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুব্রত সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় অডিটোরিয়ামে কিংবা অন্য বিভাগের কক্ষে ক্লাস নিতে হয়। সম্প্রতি আরও দুটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেগুলো এখনো চালু করা যায়নি।

আগের তুলনায় শিক্ষার পরিবেশ এখন কেমন—জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক খালিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা দুভাবে হতে পারে। একটি শিক্ষকদের, অপরটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ। তবে আমি বলব, শিক্ষার পরিবেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন পরিবর্তন হয়নি। কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে মানুষের। এসব বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না; বরং সুযোগ পেলে আরও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তাই উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আমরা দেখছি না।’