মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ৬৫ দিন দরকার আছে কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিচার–বিশ্লেষণ করে দেখা উচিত। কারণ, প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ১৫ এপ্রিল থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত। দেশে এ সময়সীমা ১ মে থেকে ৩০ জুন করা হলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে কি না, তা–ও বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।

বরগুনার পাথরঘাটার বাদুরতলা বিএফডিসি মৎস্যঘাট এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা কেউ কিনারে বসে জালগুলো মেরামত করে নিচ্ছেন। আবার কেউ কিনারে মেরামত করা জাল টেনে ট্রলারে তুলছেন। ট্রলারগুলোর খন্দলে বরফ আর প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করে তাঁরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন সাগরযাত্রার। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাঁরা সাগরে ইলিশ ধরার জন্য যাত্রা করবেন বলে জানান।

এফবি তারেক নামে একটি ট্রলারের জেলে আফজার হোসেন বলেন, ‘অবরোধে (নিষেধাজ্ঞা) মোগো জীবন এহন প্যাপডা অইয়্যা গ্যাছে। ধারদেনায় এহন জর্জরিত। সরকার চাউল দেয় ঠিক আছে। কিন্তু হেইয়্যা দিয়া তো মোগো এক মাসের খোড়াইকও অয় না। হ্যারপর মোরা চলি কী দিয়া?’

জেলেরা জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে তাঁরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুই মাস তাঁরা আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে পার করেছেন। সব জেলেই ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়েছেন।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বরিশাল বিভাগে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজার ১১৯। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩ জন জেলে সমুদ্রগামী। অন্যরা সাগর মোহনায় ও নদ-নদীতে মাছ শিকার করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে জেলে নিবন্ধন তালিকা হালনাগাদ হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন