ওই ছাত্রীর পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর দড়গ্রাম ইউনিয়নের পোলসুড়া গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে রুনা আক্তারের সঙ্গে পাশের দেলুয়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের বিয়ে হয়। পড়াশোনার প্রতি রুনার প্রবল আগ্রহ। স্বামীও তাঁকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করে আসছিলেন।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রুনার প্রসবব্যথা উঠলে স্বজনেরা তাঁকে উপজেলা সদরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। এরপর রাত সোয়া আটটার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করেন। আজ এসএসসি গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অসুস্থতার পরও স্বামীর সহযোগিতায় রুনা পরীক্ষার কেন্দ্রে আসেন।

আশা করি, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করব। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আছে।
রুনা আক্তার, এসএসসি পরীক্ষার্থী

রুনার স্বামী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি ওর (রুনা) বরাবরই বেশ আগ্রহ। আগের দিন রাতে সন্তান হলেও আজ পরীক্ষা দিতে চাইল। আমিও রাজি হলাম। সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাই। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছে বলে জানাল।’

কর্নেল মালেক উচ্চবিদ্যালয় থেকে রুনা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, ‘রুনা পড়াশোনায় মনোযোগী। আমি সব সময় রুনার সফলতা কামনা করি।’

সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষার কেন্দ্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে নির্ধারিত আসনে বসেই রুনা পরীক্ষায় অংশ নেন। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও মানসিকভাবে খুব দৃঢ়চেতা ওই ছাত্রী।

পরীক্ষা শেষে রুনা বলেন, ‘আশা করি, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করব। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা আছে।’ এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন