চায়ের দোকানের সামনে রাখা বেঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় কথা হয় কামাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, পৈতৃক সূত্রে তাঁর জমিজমা ছিল না। অনেক বছর ধরে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের রায়েরচালা গ্রামে জমি কিনে ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলেন। পা কেটে ফেলার আগে তিনি বিভিন্ন পেশার কাজ করতেন। রোজগারও ভালোই ছিল। সংসার চালানোর পাশাপাশি কিছু টাকাপয়সা জমাতেন। কিন্তু হঠাৎ করে সব এলোমেলো হয়ে যায়। তাঁর বাঁ পায়ের নখে পচন ধরে। ডাক্তার দেখালেও আর ভালো হয়নি। পরে চিকিৎসক পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। প্রথমে নখ কেটে ফেলেন। এরপর আবারও পচন ছড়িয়ে পড়লে হাঁটু এবং শেষে ঊরু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়।

কামাল মিয়া বলেন, ‘এক পা ছাড়া অনেক দিন ভালো ছিলাম। কিন্তু বছর না যেতেই একইভাবে ডান পা-টিও কেটে ফেলতে হয়। এরই মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। ছেলেরাও বিয়ে করে আলাদা হয়ে যায়। তারা এখন সবাই কারখানায় চাকরি করছে। কিন্তু আমাদের দুজনকে দেখার মতো আর কেউ রইল না। সংসার চালানো নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যাই।’

সেই সময়ের কথা মনে করে কামাল মিয়া বলেন, ‘দুই পা হারানোর পর অসহায় হয়ে যাই। শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তখন অনেকে পরামর্শও দিয়েছিল ভিক্ষা করতে। কিন্তু আমি সেই পথ বেছে না নিয়ে বাঁশ দিয়ে নানা আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি শুরু করি। পরে পাশেই রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকান দিই। সেটি ভালোই চলা শুরু করে। এখন চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, চিপস, কলাসহ অনেক কিছুই বিক্রি করি। দোকান থেকে আয়ও ভালো হয়।’ তিনি বলেন, ‘দুটি পা কেটে ফেলায় আমি ৩০ বছর ধরে প্রতিবন্ধী। তবুও নিজে কাজ করে নিজের টাকায় চলি। সন্তানেরা যার যার মতো আলাদা থাকে। আমি ঝুড়ি বানিয়ে আর চা বিক্রি করে জীবন চালিয়ে নিচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, কামাল মিয়ার মনোবল খুবই শক্ত। তিনি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেই পছন্দ করেন। গ্রামের লোকজনও তাঁর দোকানে সকাল-বিকেল চা পান করতে যান।

উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, কামাল মিয়া অনেক দিন ধরেই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তাঁকে সরকারি আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।