মাদারীপুরে ৬টি সোনার দোকানে ডাকাতি, পাশের দোকান থেকে লুট হয়েছে সিগারেট
মাদারীপুরে ৬টি সোনার দোকানে ও দুটি মুদিদোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দোকানগুলোর মালিকদের দাবি, ডাকাতেরা প্রায় ৩৫ ভরি সোনা, এক হাজার ভরি রুপা ও নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে ডাকাত দল। দুটি মুদিদোকানের ৫ লাখ টাকার সিগারেটসহ মালামাল খোয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় মিলন মোল্লা নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার হাউসদি বাজারে সাপ্তাহিক বন্ধ ছিল। সেখানে কয়েক দিন ধরে কোনো পাহারাদার ছিলেন না। গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে বাজারটিতে প্রবেশ করে মুখোশ পরা একদল ডাকাত। তারা বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে প্রথমে ‘নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে।
এরপর একই কায়দায় ‘শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স’, ‘নিউ নারায়ণ জুয়েলার্স’, ‘ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স’, ‘নিউ কনিকা জুয়েলার্স’ ও ‘মা লক্ষ্মী গহনালয়’–এর তালা ভেঙে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। চারটি সোনার দোকানের সিন্দুকের তালা ভাঙতে পারলেও নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স ও ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের সিন্দুক ট্রাকে তুলে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা। এ ছাড়া সোনার দোকানে পাশে থাকা জিয়া স্টোরসহ দুটি মুদিদোকানের তালা ভেঙে সিগারেটসহ মালামাল লুট করে নেয় ডাকাত দলটি।
ডাকাতির ঘটনাটি দেখে ফেলায় হাউসদি এলাকার স্থানীয় মিলন মোল্লা (৫৫) নামের এক প্রত্যক্ষদর্শীকে রশি দিয়ে বেঁধে আটকে রেখে মারধর করে ডাকাত দল। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সেন্টু মালো বলেন, ‘ডাকাতেরা সিন্দুকের তালা খুলতে না পেরে ওরা আমার সিন্দুকটা ট্রাকে তুলে নিয়েছে। সিন্দুকে কমপক্ষে ৩০ ভরি সোনা, ৫০০ ভরি রুপা ও নগদ ১ লাখ টাকা ছিল। কিছু রাখেনি তারা। আমি পথে বসে গেলাম।’
নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী পরিমল মালো বলেন, ‘আমাদের এখন মরণ ছাড়া গতি নাই। দোকানে বন্ধকের মালামাল ছিল। এক কেজির বেশি রুপা, আড়াই ভরি সোনা, এক লাখ টাকাসহ ছোটÑবড় যত অলংকার ছিল সব নিয়ে গেছে।’
হাউসদি বাজারের ব্যবসায়ী আজগর হাওলাদার বলেন, এ বাজারে বেশ কয়েক দিন ধরে পাহারাদার নেই। পাহারাদার না থাকার সুযোগটা ডাকাতেরা নিয়েছে। তারা সুকৌশলে ট্রাকে এসে লুট করে আবার ট্রাকেই চলে গেছে। ডাকাতির সময়টা তারা বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে রেখেছিল। এ কারণে সিসিটিভির ক্যামেরাও ছিল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক প্রত্যক্ষদর্শীও আমরা পেয়েছি। আজকের মধ্যে এ ঘটনায় মামলা হবে। ইতিমধ্যে পুলিশ ও ডিবির টিম ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।’