প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এক মাস আগে ধারদেনা করে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারে ঘুরে টাকা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড় ছেলে আবু হাসানের অপারেশন করিয়েছেন রফিকুল। এতে খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এক সপ্তাহ আগে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন আবু হাসান। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি।

মেজ ছেলে আবু হোসেন অসুস্থ শরীর নিয়ে পার্শ্ববর্তী বটতলা বাজারে অন্যের দোকানে মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। আবু হোসেন ও তৃতীয় ছেলে হাসু মিয়ার শরীরে প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয়। দুজনেরই দ্রুত অপারেশন করা প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ জন্য তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি।

মঙ্গলবার সকালে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দেড় শতাংশ জমির ওপর একটি চালা ঘর। সেখানেই গাদাগাদি করে বসবাস পরিবারটির। এ সময় রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থের অভাবে অনেক আগেই তিন ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে কোনো টাকা নেই। চোখের সামনে সন্তানদের করুণ পরিণতি আর সইতে পারছেন না। ছেলেদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুমন কান্তি সাহা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে নিয়মিত রক্ত দিতে ও চিকিৎসা করাতে হয়। পরিবারটি গরিব। তাই তিন সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছে না তারা। তাদের চিকিৎসা করানো জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস বলেন, ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।