সোনাগাজীতে ৪০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে লন্ডভন্ড গ্রাম, বিধ্বস্ত বাড়িঘর, বিদ্যুতের খুঁটি

টর্নেডোর আঘাতে লন্ডভন্ড বসতঘর। আজ দুপুর ১২টার দিকে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যমে স্বরাজপুর গ্রামেছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে প্রায় ৪০ সেকেন্ডের টর্নেডোতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে একটি গ্রাম। প্রবল বাতাসে উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ৩৫টি বাড়ি। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যমে স্বরাজপুর গ্রামে এই টর্নেডো হানা দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান, আজ সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে টর্নেডো শুরু হয়। ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী টর্নেডোটি যেদিক দিয়ে গেছে, সেদিকের সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ঝোড়ো বাতাস বাড়িঘরের টিন, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি, বাঁশ, আসবাবপত্র উড়িয়ে নিয়ে যায়। গ্রামের চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও শতাধিক গাছপালা ভেঙে পড়েছে ঝড়ে।

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ সাহাব উদ্দিন তখন বাড়িতে ছিলেন। টর্নেডোর বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমার ৭০ বছর বয়সের জীবনে এমন টর্নেডো আর দেখিনি। প্রবল বাতাসে সব ওপরে উঠে যাচ্ছিল। আমরা কোনোমতে রক্ষা পেয়েছি। হঠাৎ করে যেন কিয়ামত বয়ে গেছে। ঘরের চাল উড়ে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।’

টর্নেডোতে জয়নাল আবেদিনের ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং ধার করে অনেক কষ্টে ঘর নির্মাণ করেছি। হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বৃষ্টির মধ্যে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখন কোথায় আশ্রয় নেব, সেই চিন্তায় পড়েছি।’

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বরাজপুর গ্রামের কয়েক শ মিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে ধ্বংসের চিহ্ন। গ্রামের মেঠো পথ আর ধানখেতের পাশে পড়ে আছে ঘরের টিন, গাছপালা। কোথাও কোথাও তারসহ উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।

টর্নেডোতে উপড়ে পড়া একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। আজ দুপুরে ফেনীর সোনাগাজীর স্বরাজপুর গ্রামে
ছবি: সংগৃহীত

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহযোগিতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’

সোনাগাজী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ঝড়ে বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছু তার নষ্ট হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা সেগুলো মেরামতে কাজ করছেন।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা জানান, টর্নেডোর আঘাতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।