আজ কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা রংপুরসহ জেলার বাইরে যাওয়ার উদ্দেশে এসে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই ভেঙে ভেঙে ইজিবাইক কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। বাসস্ট্যান্ডে আসা ভূরুঙ্গামারীর এক যাত্রী মইনুল আমীন বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাব রংপুর। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘট জানতাম না। মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে এখন সিএনজি অটোরিকশায় রংপুর যাচ্ছি। আগে জানলে হয়তো রওনা হতাম না।’

আমাদের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে রংপুরের ডাকা ধর্মঘটে আমাদের জেলার মোটর মালিকেরা গাড়ি চালাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত মালিকদের নিজের।
মো. লুৎফর রহমান বকসি, সাধারণ সম্পাদক, কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতি

ঢাকায় যাওয়ার জন্য নাগেশ্বরী থেকে এসেছিলেন জসিম উদ্দিন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রা বাতিল করেন তিনি। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হরতাল বা কোনো ধর্মঘটের কথা জানা ছিল না। ৬৪ কিলোমিটার দূর থেকে জেলা শহরে এসেছি, যাব ঢাকা। কুড়িগ্রাম এসে জানতে পারলাম, পরিবহন ধর্মঘট চলছে। কিছুই করার নেই, বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি।’

কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের অটোরিকশাচালক উজ্জ্বল চন্দ্র বলেন, বাস বন্ধ, তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ অটোর যাত্রী বেশি। অনেকে বাস না পেয়ে রিজার্ভ ভাড়ায় যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে অনেকে ভেঙে ভেঙে কুড়িগ্রাম থেকে রাজারহাট যাচ্ছেন। সেখান থেকে তিস্তা হয়ে রংপুর যেতে তাঁদের ভাড়া বেশি পড়ছে।

রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির ডাকা দুই দিনব্যাপী পরিবহন ধর্মঘটে কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সম্মতি নেই বলে জানান কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বকসি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে রংপুরের ডাকা ধর্মঘটে আমাদের জেলার মোটর মালিকেরা গাড়ি চালাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত মালিকদের নিজের।’

এ পরিবহন ধর্মঘটকে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ বানচালের ধর্মঘট হিসেবে মনে করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুড়িগ্রামের বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, শনিবারের বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে কুড়িগ্রামের নেতা-কর্মীরা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই অধিকাংশ রংপুর চলে গেছেন। তাঁরা গতকাল বিকেলের পর বাসে ও ট্রেনে গেছেন। অল্প কিছু নেতা-কর্মী-সমর্থক আজ রাতের ট্রেনেও যাচ্ছেন।