৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন এলাকা, ভোগান্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক। আজ সোমবার দুপুরে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তার কোথাও গোড়ালিসমান, কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে। এভাবে হঠাৎ সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।
শহরের একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, বর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিতভাবে নালা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সড়ক থেকে পানি নামতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। শহরের ১৫৭ কিলোমিটার নালার মধ্যে ৯০ কিলোমিটার নালার অবস্থাই ভালো না। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, শহরবাসীর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নালা ও জলাশয় ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
শহরের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট প্রবল বৃষ্টি হয়। এতে শহরের অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
এরপর দুপুরে শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কলেজপাড়া লেভেল ক্রসিং এলাকা সংলগ্ন জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনের দুই পাশের সড়ক, কালীবাড়ি মোড়, টিএ রোড, কুমারশীল মোড়, পুরাতন জেল রোডের ট্যাংকের পাড়, হালদার পাড়ার অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের এলাকা, পুরাতন কোর্ট রোড, কেদাস মোড়, মুন্সেফপাড়া, ফুলবাড়িয়া, মধ্য মেড্ডা, কাজীপাড়া, সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নালার ময়লা মিশে বৃষ্টির পানি নোংরা হয়ে আছে। এ অস্বাস্থ্যকর পানির ওপর দিয়ে মানুষকে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে।
আইনজীবী তারেকুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘শহরটি দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এই শহরের সড়কের মাঝে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকে এবং পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব থাকে। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা নাগরিক সেবা কি পাচ্ছি? কিন্তু কর তো নিয়মিত পরিশোধ করছি।’
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন ৬০ জন। পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডে ১৫৭ কিলোমিটার নালা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৭ কিলোমিটারের অবস্থা ভালো। ৯০ কিলোমিটার নালার অবস্থা ভালো না। ৯০ কিলোমিটার নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরে বন্ধ হয়ে আছে। পৌর এলাকায় কাঁচা নালা আছে ১৩ কিলোমিটার। পৌর এলাকার বর্ডার বাজার এলাকার রাস্তার পাশে নালাসহ বেশ কয়েকটি নালার নির্মাণকাজ চলমান। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া, হালদারপাড়া থেকে চার লেন মহাসড়ক পর্যন্ত নালা নির্মাণকাজ দ্রুতই শুরু হবে। কুমারশীল মোড় থেকে মেড্ডা পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত নালা নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট পেলে প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে ঘোড়াপট্টি সেতু পর্যন্ত নালাটি আগে আরসিসি ঢালাইয়ের নালা ছিল। কয়েক বছর আগে সড়ক ও জনপথ সেটিকে পাইপের নালায় পরিণত করেছে। কিন্তু ফেলা ময়লা-আবর্জনা ও বালুতে নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, ১৫৭ কিলোমিটার নালার মধ্যে ৬৭ কিলোমিটারের অবস্থা ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে বাকি নালাগুলো ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও ঘাটতি রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে নালা নির্মাণকাজ চলছে, কয়েকটি নালার নির্মাণকাজ শুরু হবে। কয়েকটি নালার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাজেট পেলে কাজ শুরু হবে।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পরিষদের সামনে থেকে টিএ রোড পর্যন্ত সড়ক ও জনপথের পাইপের নালা ময়লা-আবর্জনা ও বালুতে ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পরিষ্কার করার যন্ত্র পৌরসভার কাছে নেই। সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান পাবেন পৌরবাসী।