কুয়াশা আর শীত উপেক্ষা করে সকাল ৮টার দিকে উৎসব প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীরা। উৎসবের শুরুতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য করা নির্দিষ্ট বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও স্ন্যাকস বক্স সংগ্রহ করছে শিক্ষার্থীরা। এবারের উৎসবে অংশ নিতে পঞ্চগড় জেলা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ৭২১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে অডিটরিয়ামের ভেতরে পঞ্চগড় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় অধিবেশন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি রাজিউর রহমান। পঞ্চগড় বন্ধসভার সদস্য রিফাহ তাসনিয়া প্রধান ও উর্মি রায়ের সঞ্চালনায় শুরু হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে ফ্রেশ, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের মকবুলরার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন প্রধান, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপঙ্কর রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এহেতেশামুল হক, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাসনুর রশিদ, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, প্রথম আলোর এডিটর, রিজিওনাল নিউজ তুহিন সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিশ্রম করে পড়াশোনার মাধ্যমে যেমন তোমরা ভালো ফলাফল করেছ, ঠিক তেমনিভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার সঙ্গে করতে হবে খেলাধুলা, দেখতে হবে ভালো কিছু করার স্বপ্ন। আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে বুকে ধারণ করতে হবে দেশপ্রেম। আর তাতেই আসবে জীবনের সফলতা।  

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে বন্ধুসভার সদস্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সংবর্ধনা নিতে আসা কৃতী শিক্ষার্থীরাও। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে একাধিক গান পরিবেশন করে বন্ধুসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত ব্যান্ড দল ‘ব্যান্ড এপিটাফ’।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টোকরাভাসা এলাকা থেকে এসেছিল সায়মা আক্তার। এবার টোকরাভাসা তহিবন নেছা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

সায়মা আক্তার বলে, ‘প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে এসেছি। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। শীতের দিনে আসতে কিছুটা কষ্ট হলেও এখানে এসে মন ভালো হয়ে গেছে। সবাই একসঙ্গে এভাবে সংবর্ধনা পাওয়ার মজাটাই আলাদা। প্রথম আলোর সার্টিফিকেট আর ক্রেস্ট পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।’

বোদা উপজেলা শহরের নগরকুমারী এলাকা থেকে সংবর্ধনা নিতে এসেছিল আসাদুজ্জামান নয়ন। সে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। চার বছর বয়সে টাইফয়েডে ডান হাত ও ডান পা বাঁকা হয়ে গিয়েছিল আসাদুজ্জামান নয়নের। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ-৫ পাওয়া আসাদুজ্জামান বলে, ‘আমার জিপিএ-৫টা অন্য ১০ জনের জিপিএ-৫-এর চেয়ে কিছুটা আলাদা। কারণ, আমাকে সামনের দিনে আরও ভালো কিছু করতে হবে এবং পড়াশোনা করেই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আমার থেমে যাওয়া যাবে না। প্রথম আলোর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসতে পেরে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে।’