শরীয়তপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের হোগলা এলাকার শরীয়তপুর–চাঁদপুর সড়কে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ মিছিল করা হয়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

শরীয়তপুরে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের হোগলা এলাকার শরীয়তপুর–চাঁদপুর সড়কে এ মিছিল করা হয়। পরে মিছিলের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রুদ্রকর ইউনিয়নের হোগলা এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের কর্মী আজিজুল ব্যাপারী। তাঁর সঙ্গে আরও ২৫–৩০ জন নেতা–কর্মী অংশ নেন। মিছিল থেকে তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিলের ভিডিও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতা–কর্মী নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। পরে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

২০ দিনে অন্তত ৬টি মিছিল

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহে শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা একাধিক ঝটিকা মিছিল করেছেন। গত ২০ দিনে জেলা শহরের অন্তত ৬টি স্থানে এমন কর্মসূচি পালনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জেলার পাঁচটি স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা মিছিল করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মগোপনে থাকা রুদ্রকর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মী এ মিছিল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা–কর্মী ও পুলিশের কারণে তাঁরা স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাঁদের আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতা–কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। পরে সরকার সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপর প্রকাশ্যে তাঁদের তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা না গেলেও বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিল, স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ এবং দলীয় বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছে পুলিশ।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের কয়েকজন সমর্থক শরীয়তপুরে মিছিল করে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভিডিওটি আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে অনুসন্ধান করছে। ভিডিও দেখে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এর আগে যাঁরা মিছিল করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।