ফরিদপুরে বাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান প্রসব

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান কোলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোলজুড়ে এসেছে একটি কন্যাসন্তান। তবে নবজাতকের বাবার পরিচয় মেলেনি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলসূতী বাজার এলাকায় সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। মা ও শিশুর দেখভাল করছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ফুলসূতী বাজার ও আশপাশের এলাকায় অন্তত দেড় বছর ধরে ঘুরে বেড়াতেন। বাজারের বিভিন্ন মানুষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেন। সোমবার হঠাৎ তাঁর প্রসববেদনা উঠলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তিনি বাজারের একটি ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

পরে স্থানীয় লোকজন মা ও নবজাতককে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মা ও শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইফতেখার আজাদ জানান, মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে আজ সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ হাসপাতালে গিয়ে মা ও নবজাতকের খোঁজখবর নিয়েছেন।

রেজওয়ানা আফরিন নবজাতককে কোলে তুলে নেন। একজন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জানতে পেরে মা ও শিশুটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পরামর্শ দেন। রেজওয়ানা বলেন, ‘আমরা একটি নতুন প্রাণ পেয়েছি, এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। শিশু ও মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

ইউএনও জানান, মা ও শিশুর পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মা ও শিশুটির দেখাশোনা আপাতত উপজেলা প্রশাসন করবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হলে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাহায্য নেওয়া হবে।