বিয়েতে উপস্থিতি নিয়ে ঝগড়া, পরে লাঠি-টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপির নেতা নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি বিয়ের দাওয়াতে উপস্থিত হওয়া নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জিতু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হন।
নিহত জিতু মিয়া উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে। তিনি ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধরমন্ডল ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রভাব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা জিতু মিয়ার গোষ্ঠী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। আগেও একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রতিবারই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় ধরমন্ডল গ্রামের আমীর আলীর বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে জিতু মিয়া ও কুতুবউদ্দিন দুজনই উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে জিতু মিয়ার উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলেন কুতুবউদ্দিনের পক্ষের লোকজন। এ নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, টেঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একটি টেঁটা জিতু মিয়ার মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জিতু মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ সময় কুতুবউদ্দিনের পক্ষের অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের নাসিরনগর ও আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।