‘চার দিন ধইরা খোলা আকাশের নিচে আছি, কোথায় যামু কিছুই বুঝতেছি না’

ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের পাশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জসিম উদ্দিন। গতকাল তোলাছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

‘নদী ভিটেমাটি নিছে। নিজের জায়গা বলতে কিছু নাই। অন্যের জমিজমা চাষাবাদ করে খাই। বাধ্য হয়ে বাঁধের পাশে ঘর করে থাকছিলাম। তুফানে সেটাও শেষ করে দিছে। চার দিন ধইরা স্ত্রী-সন্তান নিয়া খোলা আকাশের নিচে আছি, কোথায় যামু কিছুই বুঝতেছি না।’

কথাগুলো কৃষক জসিম উদ্দিনের। গত বুধবার ঝড়ে ঘর হারিয়েছেন তিনি। এর পর থেকেই তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। আজ রোববার পর্যন্ত তিনি কোনো সহায়তা পাননি।

জসিম উদ্দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ওই ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের কোল ঘেঁষে জসিমের ঘর। সেখানে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের টিন ও খুঁটি এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই তাঁর। গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও ছাগল রাখারও জায়গা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার বেড়িবাঁধের পাশে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব পরিবারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জসিম উদ্দিনের পরিবার তাদের একটি। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

‘আমাগো থাইকবার কোনো জায়গা নাই। যেটুকু আছিল, হেইডাও তুফানে ভাঙি হালাইছে। অল্পের লাইগা ঘরের নিচে পড়ি মইরা যাইতাম। আল্লাহ বাঁচাইছে।’
অজিবা খাতুন, জসিম উদ্দিনের স্ত্রী

জসিমের স্ত্রী অজিবা খাতুন বলেন, ‘আমাগো থাইকবার কোনো জায়গা নাই। যেটুকু আছিল, হেইডাও তুফানে ভাঙি হালাইছে। অল্পের লাইগা ঘরের নিচে পড়ি মইরা যাইতাম। আল্লাহ বাঁচাইছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অহন রাইতে ঘুমাইতে পারি না, সারা রাত বইসা থাকি। কার কাছে যামু, কে সাহায্য করব?’

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান বলেন, গতকাল বিকেলে বিষয়টি জেনেছেন। আজ বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে টিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।