রাজশাহীতে দুধবাহী লরি থামিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের দুই মাস পর দুজন গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে দুধবাহী লরি থামিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় দুধবাহী একটি লরি থামিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই করা টাকার ৩৩ হাজার টাকা, একটি পিস্তলসদৃশ খেলনা অস্ত্র এবং ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরের বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মো. আব্দুর রহমান ওরফে ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা, বর্তমানে কাদিরগঞ্জ এলাকার আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)।

পুলিশের ভাষ্য, আব্দুর রহমান এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং সায়েম সরাসরি ছিনতাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে মিলনের বিরুদ্ধে ১২টি ও ডাবলুর বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা প্রায় দুই হাজার লিটার শীতলীকৃত তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ খালাস করার পর সেন্টারের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাঁকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেন। টাকা তিনি লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা আড়াইটার দিকে লরিটি বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকার আমচত্বর-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি নীল রঙের মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ব্যক্তি লরির সামনে ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করেন। পরে তাঁরা লরির জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং চালকের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখান।

পিস্তলসদৃশ একটি বস্তু দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা গাজিউর রহমান বলেন, ছিনতাইকারীরা এই খেলনা পিস্তল ব্যবহার করেই চালককে ভয় দেখিয়েছিল। আতঙ্কিত চালক কোনো বাধা দিতে না পারায় ছিনতাইকারীরা লরির ভেতরে রাখা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় মামলা হওয়ার পর রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবিরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারের (ডিবি) তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ সূত্র না থাকায় শুরুতে তদন্তে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, মুঠোফোনের কল ডিটেইলস, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মহানগরের পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ও সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে গাজিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সরাসরি তিনজন ছিনতাইকারী অংশ নিয়েছিল বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে তাদের পেছনে আরও কেউ পরিকল্পনা বা সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আমরা শনাক্ত করেছি। খুব দ্রুত সেটিও জব্দ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই করা বাকি অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’