ধর্ষণচেষ্টার ৪০ দিন পরও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার না করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী। আজ সোমবার বিকেলেছবি : প্রথম আলো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ৪০ দিন পার হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার না করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল শিক্ষার্থী।

আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবন সংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশ-সেনাবাহিনী, র‍্যাব সবাই মিলে অপরাধীকে ধরার চেষ্টা করছে। তবে ৪০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও ফলাফল দেখা যায়নি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, তারাও চূড়ান্ত রকমভাবেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী মিলে আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। নামার পরে প্রশাসনের কাছে ছয়টা দাবি দেওয়ার পরে একটা দাবিরও পূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই। প্রথম দাবি যেখানে ছিল ধর্ষককে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। আজকে ৪০টা দিন পার হলো, একটা ঈদ পার হলো, তা–ও কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় যখন ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলমান তখন আমরা দেখেছি একটার পর একটা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বারবার করে প্রশাসনকে বলতে চেয়েছি, এই দোষীকে গ্রেপ্তার করার দায়িত্ব হয়তো আপনার না, কিন্তু এই ক্যাম্পাসের পুরো সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এই ক্যাম্পাসে অনেকগুলো নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। যার একটিরও সুরাহা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করে নাই। আজকের যে ভঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের ক্যাম্পাসে দেখছি, এটি আসলে এক দিনে তৈরি হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলে এই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন

সোহাগী সামিয়া আরও বলেন, ‘আন্দোলন ছোট হোক বা বড় হোক, আমরা যে গুটিকয় শিক্ষার্থী আন্দোলনে দাঁড়িয়েছি, প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি আদায় না হচ্ছে, আমরা কিন্তু এই আন্দোলন পাঁচজন হইলেও চালিয়ে যাব। আপনার ভাববার কোনো সুযোগ নেই যে অন্য শিক্ষার্থীরা ঘরে চলে গেছে তার মানে এই আন্দোলন বন্ধ হয়ে গেছে; আপনি পার পেয়ে যাবেন। আমাদের দাবি বাস্তবায়নে সচেতন থাকবেন, সেই প্রত্যাশা করছি।’

আরও পড়ুন

গত ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এদিন রাতেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত বহিরাগত যুবককে চিহ্নিত করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।