আট বছর পর গতকাল লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি পদে ১২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪ জন প্রার্থী হন। দ্বিতীয় অধিবেশনে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর নতুন কমিটি গঠনের জন্য দফায় দফায় প্রার্থীদের সঙ্গে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনা করেন।

একপর্যায়ে বিকেল চারটার দিকে সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আফতাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রোকোনুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শামীম আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধান অতিথির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুস্তাফিজ মিশুর সরবরাহ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রোকোনুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরে রাত ১১টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সংশোধিত নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আমিনুল ইসলামকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাতেই এই পরিবর্তনদের খবর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনস্থলে কমিটি ঘোষণার পর তাঁদের কাছে অভিযোগ আসে— সরকারি কর্মচারীকে মারধরের এক মামলায় রোকনুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পান। এরপর সংগঠনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে রোকোনুলের পরিবর্তে যোগ্য ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে রোকোনুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনে সবার সম্মতিক্রমে মঞ্চে প্রধান অতিথি তাঁকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ সম্মেলন শেষে জেলার কয়েকজন নেতা নাটোরে ফিরে নিজেদের ইচ্ছেমতো রদবদল করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মমতাজ উদ্দিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। আমার মা শেফালী মমতাজ সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার অস্তিত্ব মিশে রয়েছে। আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তবে রোকোনুল ইসলামকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে আমি মন্তব্য করব না। তবে আমি যতটুকু জানি, আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো রাজনৈতিক অতীত নেই।’

নবগঠিত কমিটির সভাপতি আফতাব হোসেন বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদল সঠিক হয়েছে। যাঁকে নতুন সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি একজন পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ কর্মী। তাঁর পরিবারের তিনজন সদস্য সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন