জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিন স্তরের নিরাপত্তা, সড়কে নেই তোরণ-ব্যানার

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে তোলাছবি : প্রথম আলো

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নামবে; তাঁরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মদানের কথা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এবার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়নি।

সাভার গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে জাতীয় স্মৃতিসৌধের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তুতি ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ১৪-২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধ এলাকার ভেতরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করে স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ। তবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীরা স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে পেরেছেন।

গত সোমবার স্মৃতিসৌধ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা স্মৃতিসৌধ চত্বরের নির্দিষ্ট স্থানে নতুন করে রোপণ করা ফুলসহ ফুলগাছের পরিচর্যা করছেন। পানি ছিটিয়ে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধ চত্বর, সবুজ ঘাসের গালিচা কেটেছেঁটে নান্দনিক করে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের বৈদ্যুতিক বাতিগুলোর বিদ্যুৎ–সংযোগ পরীক্ষা করে দেখছেন বিদ্যুৎমিস্ত্রিরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে রংতুলির আঁচড়ে বেদিসংলগ্ন সিঁড়িগুলো দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে, নতুন করে সড়কবাতিগুলোর লোহার পাইপে রং দেওয়া হয়েছে। লেক পরিষ্কারসহ স্মৃতিসৌধ চত্বরের বিভিন্ন অংশে সংস্কার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে স্মৃতিসৌধে ফুলগাছের পরিচর্যা করছিলেন আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের জন্য আমরা ফুলের গাছ লাগিয়েছি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই আসবেন। দেশের বাইরে থেকেও লোকজন আসবেন। সবাই যাতে ভালো বলেন, এ জন্য সুন্দর করার জন্য আমরা এখানে কাজ করতেছি।’

সড়কে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে সংস্কারের কাজ করছিলেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘এখানে কাজ করে আমরা খুব আনন্দ পাই।’

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাষ্ট্রের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পুরো কমপ্লেক্সকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার পরিপাটিকরণ, রংতুলির কাজ, ফুলগাছ স্থাপন, লেক সংস্কারকাজসহ বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে।

সড়কে নেই ব্যানার ও ফেস্টুন
১৩ মার্চ তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন না লাগানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আজ বুধবার সকালে স্মৃতিসৌধ–সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সড়কে তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশমাইল এলাকায় মহাসড়কে সংস্কার এবং সাভার বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এলাকায় সড়ক বিভাজকে রঙের কাজ করতে দেখা গেছে। মহাসড়কের এই অংশে বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালু ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সড়ক বিভাজকে রংয়ের কাজ করছেন শ্রমিকেরা। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে
ছবি : প্রথম আলো

নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার
স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শ্রদ্ধা নিবেদন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসবেন। তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর হাজারো মানুষ বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শ্রদ্ধা নিবেদন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এলেও ওই দিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।