গতকাল বিকেলে ডাকাতির শিকার মোটরসাইকেলের একাধিক আরোহী জানিয়েছেন, একটি ট্রলারে করে ১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত থেকে জাজিরা প্রান্তে রওনা হন তাঁরা। মাঝপদ্মায় টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাচন খোলা এলাকায় ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলে আট সদস্যের ডাকাত দল। স্পিডবোট দিয়ে আসা দলটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে মালামাল ছিনিয়ে নেয়। পরে চালক ট্রলারটি নিয়ে জাজিরার পালেরচর বাজারে পৌঁছান।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম ব্যাপারী স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রলারে চেপে জাজিরায় রওনা হন তাঁরা। ডাকাত দল তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও ৪টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

রেজাউল করিম ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যাঁরা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করি, তাঁরা এখন সবচেয়ে অসহায়। পদ্মা নদী পার হওয়ার জন্য সেতুতে অনুমতি নেই। আবার ফেরিও চলে না। ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাচ্ছি, সেখানেও ডাকাতের আক্রমণ।’

ট্রলারটির চালক মনির হোসেন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘১৫ বছর ধরে পদ্মা নদীতে ট্রলার চালাই। রাত-দিন নদীতেই থাকি। কিন্তু কখনো এমন ডাকাতের কবলে পড়িনি। আটজনের দলের একজন স্পিডবোট চালাচ্ছিলেন। তিনজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও চারজনের হাতে রামদা ছিল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে চার শতাধিক স্পিডবোটে যাত্রী পরিবহন করত। সেতু চালু হওয়ায় এখন বোটগুলো অলস পড়ে আছে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা এমন কাজ করে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা।’

ট্রলারটি ডাকাত দলের কবলে পড়লে যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে সহায়তা চান। কিন্তু নৌ পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করতে আসেনি। ট্রলারের ভুক্তভোগী যাত্রীরা সন্ধ্যায় জাজিরা থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানান। কিন্তু ঘটনাস্থল তাদের আওতাভুক্ত নয় জানিয়ে নৌ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন ট্রলারের যাত্রীরা ঘটনাটি মুঠোফোনে মাওয়া নৌ পুলিশকে জানান। ঘটনাস্থল মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে জানিয়ে নৌ পুলিশও ঘটনাটি এড়িয়ে যায়।

জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। ঘটনাস্থল পদ্মা নদীতে হওয়ায় নৌ পুলিশের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’

ডাকাতির সময় ট্রলারের যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ডাকাত দলকে আটক করার জন্য আমাদের সীমানায় টহল বসিয়েছিলাম। তারা অন্য পথ ধরে পালিয়ে যাওয়ায় আর শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থল আমাদের নৌ পুলিশের সীমানার বাইরে হওয়ায় মামলা নিতে পারিনি। টঙ্গিবাড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

এ ঘটনায় নৌ পুলিশেরই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা সোয়েব আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল পদ্মা নদীতে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে নৌ পুলিশ ভালো বলতে পারবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন