মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে হুমকি আসে

বাগেরহাটে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে মাদক নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার (ডানে)। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

বাগেরহাটে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে মাদক নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার বাগেরহাটের নতুন পুলিশ লাইনে আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে এ কথা জানান পারভীন আক্তার। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। আইজিপি একসময় এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে অধ্যক্ষ পারভীন আক্তার বলেন, কলেজে মাদকের বিস্তারের বিষয়টি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে জানানোর পর তাদের নিয়ে কলেজের কিছু চিহ্নিত জায়গা পরিদর্শন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সব শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

হল থেকে বহিষ্কার করার পরও আবার রাতে হলে এসে মাদক সেবন করছে উল্লেখ করে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘এই পূজার ছুটিতে আমার কাছে কয়েকটা ফোন আসে। ওরা (মাদকের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থী) নাকি কলেজের পুকুরের মাছ চুরি করেছে। সকালে আমি হল সুপারকে বললাম, এক কাজ করেন, হল থেকে ওদের সিটটা বাতিল করে দেন অথবা মৌখিকভাবে আগে তাদের সতর্ক করেন। তারপর তাদের সিটটা বাতিল করে দেন।’

পারভীন আক্তার বলেন, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে ওরা (মাদকের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা) নাকি হুমকি দিয়ে বলেছে যে আগের প্রিন্সিপালকে তো এভাবে ফাঁসিয়েছি। এই প্রিন্সিপাল ম্যাডাম যদি ও রকম (ব্যবস্থা নেয়) করে, ওনাকেও আমরা ফাঁসাব।’

কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি প্রশাসনের সবাইকে জানিয়ে রাখছি যে আমরা কি ওদের সাথে পারব? আর খুব ভয় হয়! আমরা কিসের মধ্যে আছি? মাদক, সন্ত্রাস! ...আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কলেজটাকে মাদকমুক্ত করতে।’

শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, অভিভাবক তাঁর সন্তান সম্পর্কে ভালো জানেন—তাঁদের সন্তান ভালো আছে নাকি নষ্ট হয়ে যচ্ছে।

কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির
ছবি: প্রথম আলো

দুই মাসে মাদকে জড়িত ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে: আইজিপি

কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে। আপনারা আর কী চান? আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপর আপনারা পরিষ্কার হবেন।’

পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, মাদক নির্মূল, জনবল ও যানবাহনের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। যারা বাহিনীকে দুর্বল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘প্রতিটা জায়গায় ষড়যন্ত্র। আমি বুঝি, আমার বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এসেই বলেছেন, প্ল্যান। এটার ভেতরে আপনারা ষড়যন্ত্র খোঁজেন কেন? তিনি কোন কাজটা খারাপ করছেন?’

আইজিপি বলেন, ‘ব্যাংক শূন্য, সবকিছু শূন্য। তারপর আবার বলেন, ওনারাই ফেরেশতা। আর এখন যারা আমরা আছি, আমরা সব খারাপ লোক।’ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে চায়, তাদের সঙ্গে আঁতাতকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।