মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মৃত আবদুস সালামের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তাৎক্ষণিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা থানায় অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে বাসে ওঠা নিয়ে উপজেলার চৌগাছী গ্রামের রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে আবদুস সালাম শেখের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সালামের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন রাশিদুল। পুলিশ এসে রাশিদুল ও সালামকে নাকোল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে সালাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই সালামের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা।

সালামের ভাই মো. রুস্তম শেখ প্রথম আলোকে বলেন, মারামারির কথা শুনে তিনি বাসস্ট্যান্ডে ছুটে যান। সেখানে এসআই জামাল তাঁর ভাই সালামকে কে লাইন কাউন্টারে ডাকেন। সেখানে তাঁর ভাই যাওয়ার পরপরই ওই পুলিশ সদস্য গালিগালাজ করতে থাকেন এবং টেবিল ও দেয়ালে ভর দিয়ে ভাইয়ের বুকে লাথি মারেন। মুখে ও ঘাড়ে চড় মারা হয়। সেখানেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন ভাই। সেখান থেকে গাড়িতে তুলে তাঁকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভাতিজা গেলেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁরা দূর থেকে ভাইকে মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের গাড়িতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর আগেই তিনি মারা যান।

তবে রাশিদুল ইসলামের দাবি, পুলিশ সালাম শেখের ওপর কোনো নির্যাতন করেনি। নাকোল তদন্তকেন্দ্রে নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

দুপুরে সালাম শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তাঁর স্বজনেরা আহাজারি করছেন। বাড়ির আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। সালামের স্বজনেরা জানান, সালাম শেখের চার সন্তানের মধ্যে দুজন বাক্‌প্রতিবন্ধী। এ অবস্থায় একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

দুপুরে ওয়াপদা লাঙ্গলবাঁধ সড়কের মানববন্ধনে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপস্থিত ব্যক্তিরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য, সেখানে একই বিভাগের কর্মকর্তাদের তদন্ত বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এর আগে এ ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন