শরীয়তপুরে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ লুট, ক্ষতি ‘প্রায় কোটি টাকা’
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা এলাকায় চলমান পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ লুটের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, দুই দিনে প্রকল্প এলাকাটি থেকে ১৩ হাজার ৫৪৬টি জিও ব্যাগ লুট হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকার।
পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা, উত্তর তারাবনিয়া, দক্ষিণ তারাবনিয়া, কাচিকাটা ও চরসেনসান ইউনিয়নের পাশ দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ চরভাগা ও তারাবনিয়া ইউনিয়নে নদীর দক্ষিণ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার এলাকায় নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ২০২৩ সালে ৩০টি প্যাকেজে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় পাউবো। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, চরভাগা ইউনিয়নের মনাই হাওলাদারকান্দি এলাকায় ২২ নম্বর প্যাকেজে ২২০ মিটার অংশে কাজ করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। তারা ঈগল রিচ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিডি লিমিটেডকে সাবঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
পাউবো সূত্র জানায়, ওই অংশে ব্যবহারের জন্য ৭৮ হাজার ৯৫৩টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৯টি সিসি ব্লক নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় রাখা জিও ব্যাগ থেকে গত ৬ ও ৭ মার্চ কয়েক শ মানুষ বালু ফেলে ব্যাগগুলো নিয়ে যায়। ২ দিনে মোট ১৩ হাজার ৫৪৬টি জিও ব্যাগ লুট হয়।
জিও ব্যাগ লুট ঠেকাতে পাউবো এলাকায় মাইকিং করেছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা ৭ মার্চ ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সাবঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈগল রিচ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিডি লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প এলাকায় রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ কিছু মানুষ নিয়ে গেছে। কেন তারা এমন কাজ করেছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বালু ফেলে রেখে জিও ব্যাগ লুটের এমন ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘চাকরিজীবনে এমন ঘটনা দেখিনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’