কুমিল্লায় অস্ত্রোপচারে জোড়া লাগল শ্রমিকের বিচ্ছিন্ন হাত
গুঁড়ি নামানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামের করাতকল শ্রমিক নজির আহমেদ (৪০)। গত মঙ্গলবার ওই দুর্ঘটনায় তাঁর ডান কবজির ওপর পর্যন্ত অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্বজন ও সহকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাঁকে হাসপাতালে নেন।
প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে সেখানকার চিকিৎসকেরা নজিরকে দ্রুত কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে পাঠান। সেখানে মঙ্গলবার রাতেই সাড়ে তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নজিরের বিচ্ছিন্ন হাত পুনরায় জোড়া লাগানো হয়।
সেখানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আরিফুর রহমান, রহমত উল্লাহ ও এনামুল হক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অপারেশন সফল হয়েছে এবং সুস্থ হলে নজির আগের মতোই তাঁর হাত ব্যবহার করতে পারবেন।
এর আগে গত ২৬ জুলাই কুমিল্লার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক কামরুল ইসলাম।
শ্রমিক নজির আহমেদ তিন সন্তানের বাবা। দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে তিনি পরিবার চালান। দুর্ঘটনার পর অর্থের সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তা করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করে আগে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া লাগায় আশার আলো দেখছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একটু পরপরই পর্যবেক্ষণ করছেন। জোড়া লাগানো হাতে স্পর্শ করলে অনুভূতিও পাচ্ছেন তিনি।
নজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্রাকের উপর থাইক্কা গাছের খাড়িডা (গাছের গুঁড়ি) যখন পড়ে, তখন নিছেও খাড়ি আছিলো। আমার উপরেই পড়ছে খাড়িডা। সবাই যখন তাড়াতাড়ি কইরা খাড়িডা সরাইলো, তখন দেখি আমার হাতটা ভাইঙ্গা ছিঁড়া গেছে। আমি চিল্লাইয়া কইতাছি আমার হাত নাই। এরপর পলিথিনে কইরা হাতটাসহ আমারে সকলে নিয়া গেছে কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেলে (ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। সেখানে যাওয়ার পর ডাক্তাররা কইলো, তাড়াতাড়ি ট্রমা হাসপাতালে যান। এরপর এখানে আইলাম।’
চিকিৎসক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে অঙ্গ জোড়া লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমি মনে করি, কুমিল্লার এসব অস্ত্রোপচার দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক।’
কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল হক বলেন, ওই রোগী অস্ত্রোপচারের খরচ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। তখন হাসপাতাল থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, আগে অস্ত্রোপচার হোক, বাকিটা পরে দেখা যাবে। অবশেষে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। এখন কুমিল্লাতেই এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক কমে এসেছে।