সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন
শরৎকুমার রায়ের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে
বরেন্দ্রভূমির কৃতী পুরুষ ও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা শরৎকুমার রায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীতে আলোচনা সভা ও স্মারক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরের কুমারপাড়া এলাকায় বাতিঘর লাইব্রেরিতে ‘স্মরণে-বরণে কুমার শরৎকুমার রায়’ শীর্ষক এ আয়োজন যৌথভাবে করে ‘বাতিঘর’ ও বরেন্দ্র ইতিহাস পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার সফিকুল ইসলাম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম আলমগীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ চঞ্চল, চলচ্চিত্রকর্মী সুলতানুল ইসলাম টিপু ও নাট্যকার দ্বীজেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী।
নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজপরিবারে ১৮৭৬ সালের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন কুমার শরৎকুমার রায় এবং ১৯৪৬ সালের ১২ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বাবা রাজা প্রমথনাথ রায় ও মা দ্রবময়ী দেবী ছিলেন বিদ্যানুরাগী ও প্রজাহিতৈষী। সেই ধারাবাহিকতায় শরৎকুমার রায় নিজেও ইতিহাসচর্চা ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দসহ কৃতী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিজ অর্থায়নে রাজশাহী শহরে প্রতিষ্ঠা করেন বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম। এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে স্বীকৃত।
অনুষ্ঠানে কুমার শরৎকুমার রায়ের জীবন ও কর্ম তুলে ধরে বরেন্দ্র ইতিহাস পরিষদের একটি স্মারকপত্র প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সফিকুল ইসলাম রচিত ‘বাংলার গৌরব বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে ঢাকার কথাপ্রকাশ প্রকাশনী।
বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার বছর আগের সিন্ধু সভ্যতার উল্লেখযোগ্য নিদর্শনও রয়েছে। এ ছাড়া নওগাঁর পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারসহ বিভিন্ন প্রত্নস্থানে খননের পথিকৃৎ ছিলেন শরৎকুমার রায়। ১৯২৩ সালের ১ মার্চ তাঁর অর্থায়নে সোমপুর মহাবিহারে শুরু হয় অবিভক্ত বাংলার প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন।
বক্তারা আরও বলেন, কুমার শরৎকুমার রায়ের অবদান কেবল একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা ও জাতিসত্তার পরিচয় নির্মাণে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসচর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে।