উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে নির্মিত আদালত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভবনটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়। এতে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্স দর দেয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যার মধ্যে আগাম জামানত ছিল ১৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম নিলামে দর দেন ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। মোজাহিদুল ইসলাম প্রভাব খাঁটিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেওয়ার জন্য টেন্ডার বক্স থেকে আগাম জামানতের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আনোয়ারা খাতুন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্র বাতিল করা হয়।

পরিত্যক্ত আদালত ভবনটি বিক্রির জন্য চলতি বছরের ৭ জুলাই আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেন ১১ জন। ২ আগস্ট প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ভবনটি পান শহিদুজ্জামান। গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনটির বেশির ভাগ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে ইট-সুরকি আলাদা করা হচ্ছে। মালামাল ট্রলিতে বহন করা হচ্ছে।

এদিকে বাতিল হওয়া নিলামের সর্বোচ্চ দরদাতা আনোয়ারা খাতুন জানিয়েছেন তাঁর অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে আবার দরপত্র আহ্বান করে ভবন বিক্রি করা হয়েছে। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি যশোরে সহকারী জজ আদালতে নালিশি মামলা করেন। বিচারক ১০ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এ ছাড়া গত রোববার তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, আনোয়ারা খাতুন একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তখনকার ফাইল ঘেঁটে জামানতের কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কারণে তখন দরপত্র বাতিল করা হয়। এখন দরপত্র হওয়ায় রাষ্ট্র লাভবান হয়েছে। দরপত্র চূড়ান্ত হওয়ার আগে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী সায়ফুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় দরপত্র বাতিল করতে পারে। অভিযোগ ওঠায় আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করছেন, তিনিও দরপত্রে অংশ নিতে পারতেন। নতুন দরপত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।