আজ সকাল সাতটার দিকে দৌলতদিয়াঘাট টার্মিনাল–সংলগ্ন বাজারে দেখা যায়, সেখানে অনেক মানুষের সমাগম। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ বাজারে উঠেছে। জেলেরা ভ্যানে ঝুড়ি ভর্তি করে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বিক্রি করতে আসছেন। অধিকাংশ ইলিশ মাঝারি আকারের। একটু বড় ইলিশ হলে সেগুলোর পেটভর্তি ডিম।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট আকারের ইলিশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, ১ কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, ১ কেজি থেকে দেড় কেজির ইলিশ ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি বা তার ওপরের বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। আড়ত ঘরের সামনে ডালার ওপর ইলিশ রেখে নিলামে হাঁকডাক করে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ বেশি হওয়ায় ছোট ও অন্যান্য মাছের দাম তুলনামূলক কম যাচ্ছে।

রাজবাড়ীর ভাজনডাঙ্গা থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আসা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচুর ইলিশ ধরার খবর পেয়ে আজ ভোরে ছেলেকে সঙ্গে করে মাছ কিনতে এসেছি। ১৮ হাজার টাকার মাছ কিনেছি। পদ্মার ইলিশ কয়েক দিন পর পাওয়া যাবে না। পাওয়া গেলেও দামের কারণে কাছে যাওয়া যাবে না। ঢাকায় থাকা আত্মীয়দের বাসায় পাঠাতে হবে, তাই বেশি কিনেছি।

গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বেশির ভাগ ইলিশের পেটভর্তি ডিম। ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি বা তার ওপরের ইলিশের পেটভর্তি ডিম। সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাড়ানো উচিত। তাহলে এসব ইলিশ ডিম ছেড়ে দিত বা এত ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ত না।

দৌলতদিয়াঘাট বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি মোহন মণ্ডল বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল প্রথম দিনে এই বাজারে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। ইলিশের এই সরগরম হয়তো আরও তিন থেকে চার দিন থাকতে পারে।