কৃত্রিম পায়েও তাঁর শরীরের মতোই বয়সের ছাপ। মাথার দিকটা ভেঙে গেছে। তলার অবস্থাও ভালো না। কিছু অংশ খুলে গেছে। হাঁটু বরাবর একটি ধাতব পাত লাগানো রয়েছে। জং ধরা নাটগুলো দেখেই পায়ের বয়সটা আন্দাজ করা যাচ্ছে। কাটা পায়ের অবশিষ্টাংশে একটা মোটা কাপড় প্যাঁচানো রয়েছে, যেন চলার সময় ব্যথা না লাগে। গায়ে খয়েরি রঙের একটি শার্ট। বুকের কাছে বোতাম খোলা। এক নিমিষে মনটা ভাবনার আকাশে উড়ে গেল। মানুষটা একদিন নিশ্চয় কর্মক্ষম ছিলেন। হয়তো কোনো দুর্ঘটনায় পাটা হারিয়েছেন। অচল হয়েছেন বলেই বোধহয় দিনের শুরুতে এভাবে পথের ধারে পড়ে থেকে ঘুমানোর অবসরটা মিলেছে।  

পাশেই একজন পথচারি বসেছিলেন। এদিকে তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। লোকটি কতক্ষণ আগে ঘুমিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। বোঝা গেল তিনিও হয়তো কোনো পথচারী। তবে এ বিষয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই।

ঘুমিয়ে থাকা মানুষটার নাম-পরিচয় গেল না। তাঁর সঙ্গেও কেউ নেই। সঙ্গে শুধু ছোট্ট একটি ব্যাগ। তার ভেতরে বেশি কিছু আছে বলেও মনে হলো না। একবার মনে হলো মানুষটা ডেকে তাঁর নাম পরিচয় জেনে নিই। কিন্তু ভয় হলো, মানুষটা জেগেই যদি প্রশ্ন করেন কেন তাঁর ঘুম ভাঙানো হলো! এই প্রশ্নের কোনো জবাব কাছে নেই। তাছাড়া নগরের এত কোলাহলের মধ্যেও নিশ্চিন্তে যিনি এমন শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারেন, তাঁর ঘুম ভাঙানো ঠিক না। এই ঘুম ভাঙানো যায় না।