এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেরা ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন ১০০টি ইলিশ। ইলিশের ওজন ৫০০-৮০০ গ্রাম। ট্রলারের মালিক নুনিয়াছটা এলাকার আমির হোসেন বলেন, ১২ দিন সাগরে হন্য হয়ে খুঁজে ইলিশ ধরা পড়েছে মাত্র ১০০টি। ২১ জেলের খাওয়াদাওয়া, জ্বালানিসহ আনুষঙ্গিক খাতে ট্রলারের খরচ হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।

ফিশারিঘাট এলাকার শাহিনুল হকের এফবি মার্শাল ট্রলারের জেলেরা বিক্রি করেন ৯০০টি ইলিশ। ট্রলারের জেলে কালা মিয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরের ৭০-৮০ কিলোমিটার গভীরে কয়েক দিন জাল ফেলে এই ৯০০ ইলিশ পাওয়া গেছে। সাগর থেকে হঠাৎ করে ইলিশ উধাও হয়ে গেছে।

এফবি শিউলী নামের ট্রলারের জেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, সাগরে প্রচণ্ড গরম। ফলে ইলিশের ঝাঁক ১০০-১২০ কিলোমিটার গভীর সাগরের দিকে চলে গেছে। সেখানে গিয়ে ছোট আকৃতির নৌযানের পক্ষে ইলিশ আহরণ সম্ভব না।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ফিশারিঘাট থেকে ঢাকায় সরবরাহ হয়েছে তিনটি ট্রাকে ১০ মেট্রিক টন ইলিশ। অধিকাংশ ইলিশ কার্টুনে ভর্তি। প্রতি কার্টুনে থাকে ২০ কেজি ইলিশ।

ইলিশ ব্যবসায়ী ওমর কাজী বলেন, গতকাল ফিশারিঘাট থেকে ঢাকায় সরবরাহ হয়েছিল পাঁচটি ট্রাকে ১৫ মেট্রিক টন ইলিশ। আগের বুধবার সরবরাহ হয়েছিল ৭টি ট্রলাকে ২১ মেট্রিক টন ইলিশ। ২৪ জুলাই এক দিনে ইলিশ সরবরাহ হয়েছিল ২০০ টনের বেশি ইলিশ।

পাইকারি মাছ বিক্রির এই বাজার থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ সরবরাহ দিচ্ছেন ‘ফিশারিঘাট মৎস্য ঐক্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অন্তত ৪০০ জন সদস্য।

সমিতির উপদেষ্টা ও ইলিশ ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, গত ২৩ জুলাই থেকে টানা পাঁচ দিন ভালো ইলিশ ধরা পড়েছিল। প্রতিদিন ২০-৩০ ট্রাক ইলিশ ঢাকার বাজারে সরবরাহ হয়েছিল। গতকাল থেকে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন দিনে দুই-তিন ট্রাক ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে। সাগর থেকে হঠাৎ করে ইলিশ উধাও হওয়ায় ট্রলার মালিক ও জেলে শ্রমিকেরা হতাশ। চট্টগ্রাম, বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা এলাকার ট্রলারেও তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না।

এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১০ মণ ওজনের ৯ হাজার ইলিশ ধরা পড়েছিল কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাটের রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি ট্রলার। ইলিশ বিক্রি করে তিনি পেয়েছিলেন ৩৯ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে ২২ জুলাই রাতে তাঁর ট্রলারটি সাগরে নামে ইলিশ ধরতে। সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সাগরে জাল ফেলে একদিনে ধরা পড়ে ৯ হাজার ইলিশ। সেই ইলিশ বিক্রি করে ২৪ জুলাই ট্রলারটি পুনরায় সাগরে ইলিশ ধরতে নামে। আজ দুপুরে ট্রলারটি ঘাটে ফিরেছে ১২০টি ইলিশ নিয়ে।
কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশ ধরতে সাগরে নেমেছে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার অন্তত ছয় হাজার ট্রলার। শুরুর কয়েক দিন ভালো ইলিশ ধরা পড়লেও এখন খালি হাতে ফিরছে অধিকাংশ ট্রলার।

সরেজমিরে দেখা যায়, ফিশারিঘাটে বিক্রি হওয়ায় ইলিশের ৪০ শতাংশের ওজন ৯০০-১৮০০ গ্রাম। ৫০ শতাংশের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম। ১০ শতাংশ ইলিশের ওজন ৩৫০-৪৫০ গ্রাম।

আজ ফিশারিঘাটে ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ১০০টি ইলিশ বিক্রি হয়েছে (পাইকারি) ২৫ হাজার টাকায়। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনে ১০০ ইলিশ ৩৫ হাজার, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ১০০ ইলিশ ৪২ হাজার, ৯০০-১০০০ গ্রাম ওজনের ১০০ ইলিশ ৭০ হাজার এবং ১০০০-২০০০ গ্রাম ওজনের ১০০ ইলিশ বেচাবিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়।

হঠাৎ ইলিশ উধাও হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে জানিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, টেকনাফ, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন উপকূলে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিছু ট্রলার ইলিশের নাগাল পাচ্ছে না। কিছুদিন পর এই পরিস্থিতি থাকবে না। গত বছর কক্সবাজার উপকূল থেকে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৩৯ হাজার ৩১৪ মেট্রিক টন। এবার ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন