পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের গৃহিণী রুপা রাণী মণ্ডল বলেন, ‘শুক্রবার থেকে উঠানে তিন-চার ফুট পানি। ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। ঘরের বাইরে যেতে পারছি না।’

একই গ্রামের বিমল সরদার বলেন, তাঁর ২৮ বিঘার চিংড়িঘের রয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চিংড়িঘের করেছিলেন। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় দিয়ে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। তাঁর ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। ঋণ নিয়ে এবার চিংড়ি চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বেড়িবাঁধ ভেঙে তাঁর চিংড়িঘের ভেসে গেছে।

একই কথা বলেন পুড়াকাঠলা গ্রামের মনোরঞ্জন সরদার। তিনি বলেন, তিনি ঋণ নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছেন। খোলপেটুয়া নদীর পানির তোড়ে ঘের ভেসে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের দীপ্তি রাণী মণ্ডল বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার মেয়ের বাচ্চা হয়েছে। সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গ্রামের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছিলাম। কাজ হয়নি। শ্যামনগর সদরে নিয়ে যাব। কোনো উপায় না পেয়ে হেঁটে যাচ্ছি।’

বুড়িগোয়ালিনী ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্গাবাটি সাইক্লোন শেল্টারের পাশে বাঁধে ধস নামে। তাঁরা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাঁধটি ভেঙে যায়। বর্তমানে ২০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। লোকালয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে। ইতিমধ্যে ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা বাঁধ মেরামতের সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পূর্ণিমার জোয়ার কমলে দুই–এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন