নেতা-কর্মীদের আড়াই হাতের বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেন আওয়ামী লীগ নেতা
নেতা-কর্মীদের আড়াই হাতের বাঁশের লাঠি তৈরি করে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের মনিহার প্রেক্ষাগৃহ এলাকায় জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের তিনি এ নির্দেশ দেন।
সমাবেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি, ২০১৮ সালে খেলেছি সেমিফাইনাল। আর এবার ২০২৪ সালে খেলব ফাইনাল। এমন খেলা করব, জীবনে বিএনপি আর এই বাংলাদেশে কথা বলতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ভয় দেখায় ভোট করবে না। আওয়ামী লীগ তাদের কখনো ভোট করতে সাধে না। ভোটের দুয়ার খোলা। ১৪ সালের ভোটের ট্রেন ফেল করেছিল। ১৮ সালে উঠতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিল। এবার উঠতে গিয়ে চাকার তলে পড়ে যাবে। আর জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারবে না।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের বলতে চাই, আপনারা আড়াই হাতের বাঁশের লাঠি তৈরি করবেন। বিএনপি-জামায়াত অবরোধ, হরতাল অগ্নিসন্ত্রাস করতে এলে আমি ও আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করব। আর যেসব নেতা-কর্মী জীবিত থেকে যাবে; তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
এ সময় আওয়ামী লীগের ভেতরে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তাঁদেরও লাঠিপেটা করে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘দেশে যখন শান্তি বিরাজ করছে, তখন জামায়াত-বিএনপি শান্তি বিনষ্ট করতে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিচ্ছে। আমরা যখন ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন আমাদের নামের তালিকা তৈরি করছে। তারা ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের এই নেতাদের হত্যা করবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকার পরও তারা আমাদের তালিকা করছে। ক্ষমতায় গেলে তারা (বিএনপি) কী করবে, ভাবুন একটু! এ কারণেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এবার এই জামায়াত-বিএনপিকে আর আগুনসন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না। এবার আর কোনো খেলাধুলা হবে না; এবার ওদের সাথে হবে লড়াই।’
জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (একাংশের) সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আজিজুল আলম, যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর কবির, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির, শার্শা উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবল শাহী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে নেতারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। এর আগে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শহিদুল ইসলাম ও প্রধান বক্তা শাহীন চাকলাদার।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের মতো জেলা শ্রমিক লীগের মধ্যেও বিভক্তি আছে। শ্রমিক লীগের অন্য অংশের নেতা-কর্মীরা এ সমাবেশে যোগ দেননি। সমাবেশের আয়োজকেরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও অন্য অংশের নেতা-কর্মীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।