কেউ রেঁধে এনেছেন চট্টগ্রামের গরুর মাংসের কালাভুনা, কেউ ওরস বিরিয়ানি। কেউ বেছে নিয়েছেন বরিশালের চিংড়ির হুররা, আবার কেউ সিলেটি আখনি পোলাও। প্রতিটি পদেই ছিল নিজস্ব অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ঘরোয়া স্বাদের ছোঁয়া। কোথাও মসলার ঝাঁজালো ঘ্রাণ, কোথাও আবার স্বাদের সূক্ষ্ম ভিন্নতা মুগ্ধ করে বিচারকদের। কোনটাকে ফেলে কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন, এমন মধুর সমস্যায় পড়তে হয়েছে বিচারকদের। শেষমেশ মান ও রান্নার বিচারে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হয় ১০ রাঁধুনিকে।
চট্টগ্রামে চতুর্থবারের মতো শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রান্নার প্রতিযোগিতা কনফিডেন্স সল্ট-প্রথম আলো ‘পাক্কা রাঁধুনি ২০২৬’। আজ রোববার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চট্টগ্রামে ছিল প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্ব। এতে নিজেদের রেসিপি অনুযায়ী বিচারকদের সামনে রান্না উপস্থাপন করেন ৪০ জন প্রতিযোগী। সেখান থেকে ১০ জনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
‘পাক্কা রাঁধুনি ২০২৬’-এ অংশ নিতে ১০ মে পর্যন্ত নিবন্ধন করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৫৭৪ রাঁধুনি ৬০০টির বেশি রেসিপি পাঠিয়েছেন। কয়েকটি ধাপে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১২ মে বিচারকেরা ৪০ জনকে দ্বিতীয় পর্বের জন্য নির্বাচন করেছেন। এই পর্বে বাছাই করা প্রতিযোগীরা নিজ নিজ বাসা থেকে তৈরি করা রেসিপি নিয়ে হাজির হন।
আজ বাছাইপর্বে বিচারক ছিলেন পেনিনসুলার নির্বাহী সু শেফ মো. জামাল হোসেন, রন্ধনশিল্পী জেবুন্নেসা বেগম ও জোবাইদা আশরাফ। প্রথম আলো চট্টগ্রামের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনজুর মোরশেদের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) সরদার নওশাদ ইমতিয়াজ।
চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত ১০ জন হলেন কোহিনূর ইয়াসমিন, নুর হোসেন, মমতাজ বেগম, জুলকার নাইন মো. ফাহিম, নার্গিস শামীমা, শাহরিন সুলতানা, ফারহানা চৌধুরী, মোহাম্মদ বাইজিদ, মাহামুদা আক্তার এবং শাহিরা হোসেন। চূড়ান্ত পর্বের সব প্রতিযোগীকে বিচারকদের সামনে রান্না করতে হবে।
২১ মে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেরা রাঁধুনি পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। এবারের থিম ‘দেশীয় রান্না’। ২০২৩ সাল থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রাঁধুনিদের জন্য চট্টগ্রামে বসছে এই প্রতিযোগিতা। শুরুতে শুধু চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে আয়োজন হলেও এর পর থেকে সারা দেশের প্রতিযোগীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।