মোংলায় বিএনপির সাবেক এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিমের দোয়া অনুষ্ঠানের আগে হামলা
বাগেরহাটের মোংলায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের উদ্যোগে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠান শুরুর কিছু আগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বিকেলে মোংলা উপজেলার হেলিপ্যাড মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এম এ এইচ সেলিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনসহ জেলার তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে ‘মোংলার সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের ব্যানারে’ হেলিপ্যাড মাঠে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের অভিযোগ, দোয়া মাহফিলে বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য খাবার তৈরির কাজ চলছিল। বেলা একটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে সভামঞ্চসংলগ্ন খাবার তৈরির তাঁবুতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। তারা কিছু খাবার নিয়ে যায় ও প্যাকেট নষ্ট করে। এ সময় খাবারের তত্ত্বাবধানে থাকা দুজন আহত হন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন রামপাল উপজেলার ৬ নম্বর হুড়কা ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ছোবহান মোল্লা ও মো. মাইনুল। তাঁরা দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের কর্মী।
ছোবহান মোল্লা বলেন, ‘মোটরসাইকেলে করে ১৫–২০ জন এসে হঠাৎ হামলা করে। হামলার সময় জীবন বাঁচাতে পাশেই মোংলা থানার ভেতরে আশ্রয় নিই। পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোংলা থানার ওসিকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, তেমন গুরুতর কিছু হয়নি। থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলাও হয়নি।
পরে সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে এম এ এইচ সেলিমসহ তাঁর কর্মী–সমর্থকেরা হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান এবং সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন এম এ এইচ সেলিম। তিনি বলেন, ‘নদীর ওপারে থাকতেই আয়োজকেরা আমাকে বলেন, ওপারে যাওয়ার দরকার নেই, লোকজন নেই, সব ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু আমি বলেছি, যে মাঠে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠান, সেখানে আমি যাব না, তা হতে পারে না। পরে দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও অংশ নেন।’
এম এ এইচ সেলিম আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থী, আমি আসতেছি, এ কারণেই হয়তো কেউ না কেউ এটা করিয়েছে। আবু হোসেন ও আবুল কাশেম নামের দুজনের নেতৃত্বে ওই হামলা হয়েছে বলে আয়োজকদের কাছ থেকে শুনেছি।’
উল্লেখ্য, আবু হোসেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আবুল কাশেম পৌর যুবদলের সদস্যসচিব।
অভিযোগ অস্বীকার করে আবু হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কসম খোদা, আমি ওখানে যাইনি। আমরা যেহেতু মোংলায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি, তাই আমাদের বদনাম করতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করা হচ্ছে।’