গতকাল সোমবার রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কয়াখাস নলপুকুরিয়া গ্রামের জামতলী-রানীরহাট সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পুতুল দুটির প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে।

সিংড়া থানার পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকালে সিংড়ার কয়াখাস নলপুকুরিয়া গ্রামের জামতলী-রানীরহাট সড়কে দুই আরোহীকে নিয়ে একজন বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পথচারীরা তাঁদের সতর্ক করলেও তাঁরা মানছিলেন না। এ সময় কিছু উৎসাহী যুবক তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁরা থামছিলেন না। এতে তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকাবাসী মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ধরেও ফেলেন। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি চকচকে সোনালি রঙের পুতুল উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে খবর দিয়ে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, পুতুল দুটি স্বর্ণের মনে করে তাঁরা এক নারীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে কিনেছেন। লোকজনের দৃষ্টি এড়াতে তাঁরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালাচ্ছিলেন। পুলিশ পুতুল দুটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। পরীক্ষায় পুতুল দুটি পিতলের তৈরি বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়। পরে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বাদশা মিয়া বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিক্রেতা নারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় পুতুল দুটি জব্দ করে থানা হেফাজতে রেখেছে। পুতুলের ক্রেতা বাদশা মিয়া রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আর সাইদুর রহমান তাঁর ছেলে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে পুতুলসহ দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁদের কাছে থাকা পুতুল দুটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো পিতলের তৈরি। এ ঘটনায় প্রতারিত বাদশা মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রতারক বিক্রেতাকে ধরতে পুলিশ মাঠে আছে। তদন্তের স্বার্থে তিনি বিক্রেতার পরিচয় জানাননি।