‘ভোট দিলি দেশেত শান্তি আইয়্যে’
বেলা ১১টা। চন্দনাইশের শুচিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সবুজ মাঠে গাছের ছায়ায় বসে ছিলেন দিপু রানী দে। বয়স ৯২ বছর। পাকিস্তান আমল থেকেই ভোট দিয়ে আসছেন তিনি। সামনে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তবু চোখেমুখে ক্লান্তির চিহ্ন নেই; বরং আছে একধরনের উচ্ছ্বাস। আজ বৃহস্পতিবার কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
আগামী নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার আশা জানিয়ে দিপু রানী দে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, ‘আঁরা দেশেত শান্তি চাই। ভোট দিলি দেশেত শান্তি আইয়্যে।’ (আমরা দেশে শান্তি চাই। ভোট দিলে দেশে শান্তি আসে।)
বয়সের ভারে ন্যুব্জ দিপু রানী দে হাঁটতে পারেন না সোজা হয়ে। হাতে লাঠি। তবু ভোট দিতে এসে ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুয়ো ভোট দি। হনঅ অসুবিধা নঅ অই। ঘণ্টাহানেক লাইনঅত আছিলাম।’
ভোট দিতে আসার অনুপ্রেরণা কী—এমন প্রশ্নে দিপু রানীর উত্তর ছোট, কিন্তু স্পষ্ট, ‘দেশর শান্তি, দশর শান্তি। শান্তি চাই।’
শুচিয়া রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩৩ শতাংশ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৫০১ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৫০০টি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।
এদিকে চন্দনাইশের আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রের মাঠজুড়ে বেলা ১১টার দিকে দুই শতাধিক ভোটারের লম্বা সারি দেখা যায়। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ধীরে ধীরে লাইনে এগিয়ে ভোট দিচ্ছেন তাঁরা।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসেন হালিমা বেগম (৬০)। তাঁর বাড়ি চন্দনাইশ পৌরসদর এলাকায়। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোট দি দুই জাগাত। মার্কাতও দি, আবার গণভোটও দি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু ন জানি। আল্লাহর নাম লই ভোট দি।’ (ভোট দিয়েছি দুই জায়গায়—মার্কাতেও দিয়েছি, আবার গণভোটও দিয়েছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না। আল্লাহর নাম নিয়ে ভোট দিয়েছি।’
সকালে বাড়ি থেকে এসে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন হালিমা বেগম। তাঁর ভাষায়, দেশে শান্তি ফিরলেই তিনি সন্তুষ্ট।
একই কেন্দ্রে কোলে এক মাসের শিশুকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন তসলিমা আক্তার। তিনি বলেন, আগেও ভোট দিয়েছেন। এবারও আগ্রহ নিয়েই ভোট দিতে এসেছেন।
আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আসাদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫১ জন। এর মধ্যে অর্ধেকই নারী ভোটার। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৪০৬ জন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে ভোট পড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট উপস্থিত রয়েছেন।
কাঞ্চনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৯৯২ জন। ভোট পড়েছে ৩৫ শতাংশ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দেবানন্দ বসু প্রথম আলোকে বলেন, এখানে নারী ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ নারী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৭, নারী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৫ এবং হিজড়া ভোটার ১ জন। মোট ১০০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে। আসনটিতে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।