গোপালগঞ্জে ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় সহকারী অধ্যাপক কারাগারে

কারাগার
প্রতীকী ছবি

গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আমলি) বিচারক অনুশ্রী রায় এ আদেশ দেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানা থেকে গোলাম মোস্তফাকে আদালতে আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে ওই শিক্ষককে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যেসব কাজের সঙ্গে গোলাম মোস্তফা যুক্ত ছিলেন, সেসব কাজ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ওহিদ আলম লস্কর প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সন্তানের সমতুল্য। আজ তাদের নিরাপত্তা কোথায়? কলেজের রোভার স্কাউট, স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কমিটি, ইংরেজি বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা সাধারণ সভা করে তাঁকে এই কলেজ থেকে অপসারণ করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিব বরাবর প্রতিবেদন দিয়েছি।’

আরও পড়ুন

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, গত রোববার দুপুরে গোলাম মোস্তফা তাঁর গোপালগঞ্জের বাসায় ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই ছাত্রী বিষয়টি তাঁর মা–বাবাকে জানালে শিক্ষার্থীর মা গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ও পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিক্ষার্থীর মায়ের করা অভিযোগটি গতকাল সোমবার গোপালগঞ্জ সদর থানায় ধর্ষণ মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। পরে গতকাল সন্ধ্যায় গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।