টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রের নামে মামলা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিস্ফোরণে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রের বাড়িতে অভিযান চালায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। মঙ্গলবার উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা বাজার এলাকায়প্রথম আলোর ফাইল ছবি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণে এক মাদ্রাসাছাত্র গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় তাঁকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এতে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুকুর আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামি আহত মতিউর রহমান (২৩) উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার মতিউর রহমান নিজ বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে কয়েকজনকে নিয়ে ককটেল তৈরির কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে তাঁর হাত, পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয় লোকজন মতিউর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় সেখানে চিকিৎসাধীন।

ওই ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা একটি অবিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এসএস পাইপের টুকরা, বাঁশের হাতলযুক্ত লোহার হাতুড়ি, দিয়াশলাই বাক্সের খোসা ও বারুদ বের করা বিপুলসংখ্যক কাঠিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আহত মতিউরের বাবা মোস্তাক আহম্মেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তাঁদের এক আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষে মতিউর আতশবাজি বানানোর চেষ্টা করছিল। তখন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ডান হাতের আঙ্গুলের একাংশ উড়ে যায়, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলছে গেছে।

আরও পড়ুন