চুনতি অভয়ারণ্যের ছড়ায় অবৈধ বাঁধ, অপসারণ করল প্রশাসন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্যের একটি ছড়ায় অবৈধভাবে দেওয়া বাঁধ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাঁধটি অপসারণ করা হয়। যে ছড়ায় বাঁধ দেওয়া হয়, সেটি কুলপাগলীর ছড়া নামে পরিচিত।
বন বিভাগ জানায়, কুলপাগলীর ছড়াটির উৎপত্তি চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন পাহাড়ি এলাকা থেকে। এটি অভয়ারণ্যজুড়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটিই বনটিতে পানির অন্যতম উৎস। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চুনতি ইউনিয়নের গোলাইম্মাঘোনা এলাকায় ছড়াটিতে বাঁধ দিয়েছিলেন। ওই বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট ও প্রস্থ ৪ ফুট। শুষ্ক মৌসুমে এ বাঁধের পানি থেকে কৃষকদের খেতে সেচ দেওয়া হতো। সেচের বিনিময়ে টাকা নেওয়া হতো কৃষকদের কাছ থেকে। বাঁধের কারণে অভয়ারণ্য এলাকায় পানির সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। এর আগে গত শুক্রবারও বাঁধটি অপসারণ করেছিল বন বিভাগ। তবে রাতের আঁধারে এ বাঁধ আবার নির্মাণ করা হয়।
বাঁধ অপসারণের অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন। এ সময় চুনতি অভয়ারণ্য এলাকার বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সহায়তা করে লোহাগাড়া থানার পুলিশ।
জানতে চাইলে চুনতি অভয়ারণ্য এলাকার বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় চুনতি অভয়ারণ্যে বন্য প্রাণীর পানিসংকটসহ নানা প্রাকৃতিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’