দেশের মানুষ নিরাপদ কেবল ১১–দলীয় জোটের কাছে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যে দলের কাছে নিজের নেতা–কর্মীরাই নিরাপদ নন, সে দলের কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর পক্ষ নিরাপদ নয়। যারা হত্যার রাজনীতি করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে, তাদের কাছে দেশের ২০ কোটি মানুষও নিরাপদ নয়। দেশের মানুষ নিরাপদ কেবল ১১–দলীয় জোটের কাছে।’
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস সড়কে নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষারের পক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নরসিংদীতে শুধু সারোয়ার তুষারকে বেছে নিয়েছি আমরা। তাঁর মতো চিন্তাশীল তরুণ রাজনীতিবিদদের সংসদে যাওয়া উচিত। আগামী সংসদে সংস্কার ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন হবে। এনসিপির সংস্কার কমিটির প্রধানও ছিলেন সারোয়ার তুষার। পলাশ একটি সম্ভাবনাময় জায়গা। এখানে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতির কাছে। আপনাদের কাছে সুযোগ এসেছে নেতা নির্বাচনের। আপনিই ঠিক করবেন, আপনার হয়ে সংসদে কথা বলবে কে?’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আপনাদের উচিত, এখন সসম্মানে রিটায়ারমেন্টে (অবসরে) যাওয়া। অনেক রাজনীতি আর অনেক অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি। এখন তরুণদেরকে-নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতে হবে। এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আমরা গণ–অভ্যুত্থান করি নাই। বরং কেউ যাতে স্বৈরাচার না হইতে পারে, সে জন্যই গণ–অভ্যুত্থান হয়েছিল।’
একটি দল প্রথম থেকে সংস্কারের বিরোধিতা করে গেছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারা ফ্যাসিবাদী আমলের ৩১ দফা দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জনগণকে। ৫ আগস্টের পর আমরা দেখলাম, তাঁরা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে সকল সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই নির্বাচনে জয়ী হলে একটি কথাও রাখবেন না তাঁরা। এবারও দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে ঋণখেলাপিদের, দ্বৈত নাগরিকদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারা এর জবাব দেবেন ১২ ফেব্রুয়ারিতে ব্যালট–বিপ্লবের মাধ্যমে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পর লুটপাটের রাজনীতি দেখেছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতি দেখেছেন। আধিপত্যবাদী শক্তি কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে, ইলেকশন ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করছে। এবার ১১–দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে থাকুন। ইনশা আল্লাহ উত্তম প্রতিদান পাবেন। নরসিংদী-২ আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রতীক শাপলা কলি। আমরা কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’
নির্বাচনী এই পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে একটি দল সহিংস রূপ ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে অভিজ্ঞতা দিয়েছে, দলটি ১৭ মাসেই সেসব অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে একত্র হয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলাম তাদের কর্মের জন্য। আবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শক্তি ১১টি দলে একত্র হয়েছি। যারা আবার আওয়ামী লীগ হতে চায়, যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে কথা বলে, আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট–বিপ্লবের মাধ্যমে তাদেরকেও বিতাড়িত করব।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্যান্টাসি, রিয়েলিটি শোর মধ্য দিয়ে আপনাদের ম্যান্ডেট নিতে চাই না। আমরা দেশের প্রকৃত সমস্যা ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের মধ্য দিয়ে আপনাদের ম্যান্ডেট চাই। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কবর রচনা করে সুশাসন-সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব নাগরিকের মর্যাদার জীবন নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে আপনাদের ম্যান্ডেট চাই।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক রাফায়েত রোমান, নরসিংদী জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আওলাদ হোসেন, পলাশ উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।