বগুড়ায় ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা-কর্মীদের ওপর ‘বিদ্রোহীদের’ হামলা
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা ও তাঁদের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নতুন কমিটির শীর্ষ নেতারা সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন পাঁচজন। একই সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে।
মার খেয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল মাহিদুল জয়ের অনুসারীরা। তাঁদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন তাঁদের ওপর এই হামলা চালান ও তাঁদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
তবে সে অভিযোগ অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার। তাঁর মতে, যাঁরা কলেজ ক্যাম্পাসে রাতের বেলা এসেছেন তাঁরা শিবিরের কর্মী। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এসব বহিরাগত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছেন।
জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাত ৯টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সদ্যঘোষিত কমিটির সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুল জয়ের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে নেতা-কর্মীরা সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যান। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাসভবনের ভেতরে ঢুকলেও নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে তাঁদের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। তাঁরা অধ্যক্ষের বাসভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের পেটান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অনেক আগেই আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের অশুভ তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর ক্যাম্পাস দখলে এলে ছাত্রদলকে প্রতিহত করা হয়। গতকাল রাত ৯টার দিকে আবারও খবর আসে, কলেজ ক্যাম্পাসে নাশকতার জন্য ছাত্রশিবির মহড়া দিতে এসেছে। এ খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে বহিরাগত ব্যক্তিরা একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বহিরাগত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।মাহফুজার রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, তাঁরা দুজন অধ্যক্ষের বাসভবনের ভেতরে ছিলেন। নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তৌহিদুর ও মাহফুজারের নেতৃত্বে একদল লোকজন তাঁদের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। এতে চারজন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুর রহমানকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামানকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজার রহমান বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অনেক আগেই আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের অশুভ তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর ক্যাম্পাস দখলে এলে ছাত্রদলকে প্রতিহত করা হয়। গতকাল রাত ৯টার দিকে আবারও খবর আসে, কলেজ ক্যাম্পাসে নাশকতার জন্য ছাত্রশিবির মহড়া দিতে এসেছে। এ খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে বহিরাগত ব্যক্তিরা একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বহিরাগত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কারও ওপর হামলার অভিযোগ সত্য নয়। তা ছাড়া ছাত্রলীগের কেউ রাতের আঁধারে চোরের মতো ক্যাম্পাসে শক্তি প্রদর্শন করতে আসবে কেন?
গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, ‘গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনা আমরা আইনিভাবে মোকাবিলা করব। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ ছাড়া হামলাকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া বলেন, পদবঞ্চিত নেতাদের আন্দোলনের কারণে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিনের বেলা সম্ভবত অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নিরাপদ মনে করেননি। এ কারণে তাঁরা রাতে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় ছাত্রলীগের ‘বিদ্রোহী’ অংশের নেতা-কর্মীরা হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে বিদ্রোহীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
গত ৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলন ছাড়াই সাত বছর পর ঘোষিত এ কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম আছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।