বিদ্যালয়টি যেন সুখ ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ—বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পরিদর্শন শেষে বিদেশি পর্যটক

আলোর পাঠশালা পরিদর্শনে আসেন বেলজিয়ামের চার নাগরিক। এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাবুডাইংয়েছবি: প্রথম আলো

‘বিদ্যালয়ের অপূর্ব সৌন্দর্য, চমৎকার শিক্ষকেরা। শিশুদের সর্বক্ষণ হাসিমুখ, সবার সদ্ব্যবহার দেখে আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বিদ্যালয়টি যেন সুখ ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।’ বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পরিদর্শনে এসে এমন মন্তব্য করেন বেলজিয়ামের নাগরিক হেলা।

আজ মঙ্গলবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালাটি পরিদর্শন করেন বেলজিয়ামের দুই দম্পতি। তাঁরা হলেন লেখক ও শিক্ষক গ্রেগরি (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী প্রকৌশলী হেলা (৪৮) এবং সরকারি চাকরিজীবী ইভস (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী গবেষক ক্যাটরিন (৬০)। তাঁরা ২০ থেকে ২৫ দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তাঁরা ‘বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চার’ নামে একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে এখানে আসেন। এ সময় তাঁদের গাইড হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফ্রিদি।

বিদেশি চার পর্যটক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নাচ-গানে অংশ নেন। আজ মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ীর বাবুডাইংয়ে
ছবি: প্রথম আলো

সকাল সোয়া ১০টায় বিদ্যালয়ের ফটকের কাছে এলে অতিথিদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার গানের সঙ্গে নাচতে নাচতে অতিথিদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের সামনে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান প্রদর্শন করে। অতিথিরাও নাচের দলের সঙ্গে নাচে অংশ নেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় অ্যাসেম্বলি। ইভস বলেন, ‘এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুলটি যেন আলোর দিশারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি দেখে খুবই অভিভূত হয়েছি।’

অতিথিদের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরিয়ে দেখান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর। তাঁরা পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। অতিথিদের গান গেয়ে শোনায় শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন। অতিথিরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গানে অংশ নেন।

বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফ্রিদি বলেন, অতিথিরা রাজশাহী এসেছেন শুধু বাবুডাইং আলোর পাঠশালা দেখার জন্য। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত মেলামেশা ও শিক্ষকদের আতিথেয়তায় তাঁরা খুব খুশি।