উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জেলা পরিষদের জমি বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো বরাদ্দ পাইনি।’ বরাদ্দের আগে সাইনবোর্ড টাঙানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জায়গাটির জন্য আবেদন করেছি। অনুমোদনের আগে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙালে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল?’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে আবেদনের মাধ্যমে স্থানীয় ১২-১৩ জনকে উপজেলা পরিষদের পাশের ওই জমি বন্দোবস্ত দেয় জেলা পরিষদ। ২০০০ সালের এপ্রিলে তাঁরা বন্দোবস্তের বিপরীতে ফি পরিশোধ করেন। জেলা পরিষদের সম্পত্তি বিধিমালা ২০১৭–এর ৭ নম্বর ধারার ১-এর ‘খ’ উপধারায় বলা হয়েছে, রাজস্ব আয়ের জন্য পরিষদের মালিকানাধীন জমি অনূর্ধ্ব এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া যাবে। আবার ‘চ’ উপধারায় বলা হয়েছে, ইজারার মেয়াদ শেষ হলে আবার এক বছরের জন্য নতুনভাবে চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে। কিন্তু ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা কয়েক বছর পর ফি পরিশোধ বা নতুনভাবে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেননি।

এদিকে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। খবর পেয়ে ৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্মাণাধীন ওই স্থাপনাগুলো ভেঙে দেন। এরপর ১৯ অক্টোবর ওই জায়গায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান লেখা সাইনবোর্ড টানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। সাইনবোর্ডটি এখনো সেখানে আছে।

জেলা পরিষদের ওই জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সদরের বদরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘১৯৯৯ সালে জেলা পরিষদ থেকে আমি ৬৭৫ বর্গফুট জমি লিজ পাই। সেটা নবায়নের আবেদনও করেছি। কিন্তু সেখানে এখন সরকার দলীয় কার্যালয় নির্মাণের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা লিজ নেওয়া জমিটি হারানোর শঙ্কায় আছি।’

এ বিষয়ে ইউএনও বিপুল কুমার রায় বলেন, জেলা পরিষদের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছিল। খবর পেয়ে তাঁরা তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্মণ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বালিয়াডাঙ্গীর জেলা পরিষদের জমিতে অবৈধ দখলদার ঘর তোলার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি। সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মু. সাদেক কুরাইশী বলেন, বরাদ্দের আবেদন করেই সরকারি জমিতে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ওই জমি থেকে দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ডটি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।