সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের জন্য নেওয়া পাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বনাঞ্চলে অবস্থান করে বিপুল পরিমাণ মধু সংগ্রহের অভিযোগে ১১ মৌয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩১টি কনটেইনারে থাকা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কেজি মধু জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গোলাখালী এলাকা থেকে ১১ মৌয়ালকে আটক করা হয়। পরে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে রাত আটটার দিকে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কামরুল শেখ (৪৫), আল-আমিন (৩৫), আহসান হাবিব (৪০), রব্বানী (৩০), ওহেদ আলী গাজী (৬৫), আমজাদ হোসেন (৬৪), মোবারক শেখ (৩১), বাবু রহমান (২৫), আবিয়া মালিক (৫২), মনিরুল ইসলাম খান (৩০) ও কবিরুল ইসলাম (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর সোরা গ্রামে।
আটক মৌয়াল আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁরা গত ১২ মে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে ১৫ দিনের পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান। কাচিকাটা, দায়েরগাং, বৈকারী, কলাগাছি ও চুনকুড়িসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁরা মধু সংগ্রহ করেন। তাঁর দাবি, ২৭ মে দায়েরগাং এলাকায় বনদস্যু আলিম বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের অপহরণ করা হয়। পরে সুন্দরবনের গভীরে একটি খালে আটকে রেখে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রায় ১০ দিন আটকে রাখার পর বনদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে ২ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।
আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, মুক্তি পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তাঁরা গোলাখালী এলাকায় এসে পৌঁছান। সেখানে সকালের খাবার খাওয়ার সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশনের টেংরাখালী টহল ফাঁড়ির সদস্যরা তাঁদের আটক করেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরে আটক ব্যক্তিদের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে নেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়।
সাতক্ষীরা বন বিভাগের আদালত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিরা ১৫ দিনের মধু সংগ্রহের পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু পাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাঁরা প্রায় এক মাস বনে অবস্থান করে বিপুল পরিমাণ মধু সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে ৩১টি কনটেইনারে থাকা প্রায় সাড়ে ১২ শ কেজি মধু জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ মৌয়ালকে আদালতের মাধ্যমে রাত আটটার দিকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বন বিভাগের কৈখালী স্টেশনের টেংরাখালী টহল ফাঁড়ির নৌকাচালক (এফজি) সালাউদ্দিন খান বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এরফান বলেন, আটক মৌয়ালরা বনদস্যুদের হাতে আটক ছিলেন—এমন কোনো তথ্য তাঁদের জানা নেই।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, এসব বিষয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের না জানিয়ে গোপনে বনজীবীদের পক্ষ থেকে সমঝোতা করে নেওয়া হয়।