রাজশাহীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাস ধর্মঘট, দিনভর যাত্রীদের দুর্ভোগ

রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। আজ মঙ্গলবার নগরের শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালেছবি : প্রথম আলো

সেলিম খানের সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায়। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনি রাজশাহীতে এসেছেন। এখান থেকে ঢাকায় যাবেন। কিন্তু রাজশাহীতে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বন্ধ। এতে সেলিম খান বিপাকে পড়েছেন।

সোমবার রাত আটটা থেকে রাজশাহী থেকে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রাতের মধ্যে শুধু দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটেরই বাস চলাচল বন্ধ।

আজ বেলা পৌনে একটার দিকে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালের ন্যাশনাল কাউন্টারের সামনে ভুক্তভোগী সেলিম খানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, তিনি অটোরিকশায় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। এখন রাতের মধ্যে ঢাকায় যেতে না পারলে তাঁদের ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ভদ্রা এলাকায় বাস কাউন্টারের সামনে দেখা যায়, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার বিধান সাহা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে বড় একটি বস্তা। আর ব্যাগে রয়েছে দুটি জ্যান্ত রাজহাঁস। এসব নিয়ে তিনি বিপাাকে পড়েছেন।

আজ বেলা দুইটার দিকে শ্রমিক নেতা মামিনুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর তাঁদের সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে রয়েছেন। এ অবস্থায় এক দখলদার বাহিনী তাঁদের কার্যালয় দখলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে একটা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল সোমবার তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় অংশ নেন। ওই সভায় নির্বাচনী কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে একজন মালিকের নাম উচ্চারণ করলে শ্রমিকেরা আপত্তি জানান। এতেই শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে বের হয়ে আসেন।

মামিনুল ইসলাম আরও বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভা করে তারপরে নির্বাচন করতে হবে। শ্রমিকদের এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ধর্মঘট থেকে সরে আসবেন না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজ দুপুরে তাঁদের ডেকেছিলেন। সেখানেও তাঁরা একই দাবির কথা বলে এসেছেন।

সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা ক্ষুব্ধ, তাঁদের তিনি ডেকে জানতে চেয়েছিলেন এই মুহূর্তে নির্বাচন ছাড়া তাঁরা কীভাবে সমঝোতায় আসতে পারেন। তখন তাঁরা সময় চেয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। পরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক চলছে। সেখান থেকে তাঁরা আবার তাঁর কাছে আসবেন।

আরও পড়ুন

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যাঁরা নির্বাচন দাবি করছেন, তাঁদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলা হয়। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম (পাখি) ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। এই কমিটি প্রত্যাখান করে শ্রমিকেরা গত মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট করেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম (হেলাল) গতকাল রাতে বলেছিলেন, ‘মিটিং হলে সেখানে কথা–কাটাকাটি হতেই পারে। এর জেরে বাস বন্ধ রাখা কিংবা চেম্বারে হামলা করা ঠিক না। কিন্তু এটিই করা হয়েছে। তারা আমার চেম্বারে হামলা-লুটপাট করে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।’