প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার লালপুর এলাকার শিল্পী এস এম শামীমের বাসভবনে ‘মার্ক লেবেল’ নামে একটি মিউজিক স্টুডিও আছে। সেখানে গান ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কাজ চলে। আজ বেলা একটার দিকে মিউজিক স্টুডিওতে হঠাৎ বিকট শব্দে এসি বিস্ফোরিত হয়। তখন স্টুডিওর ভেতরে রেজওয়ানুর ও বন্ধু মাহিম ছিলেন। বিস্ফোরণে তাঁরা দুজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে স্টুডিওটির জানালার কাচ ভেঙে যায় ও স্টিলের দরজা বাঁকা হয়ে যায়। জানালার কাচের আঘাতে আহত হন এস এ শামীম, চাঁদনী ও শিশু রাজ।

রেজওয়ানুরের বড় ভাই সাজ্জাদুর রহমান বলেন, স্টুডিওতে বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে বাড়ির দোতলা থেকে তিনি দ্রুত নিচে নেমে আসেন। এসে দেখেন, স্টুডিওর রুমের দরজা ও জানালার ভেঙে ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে ভেতরে গিয়ে দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিস্ফোরণের পরপর আহত সবাইকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, আহত পাঁচজনের মধ্যে দগ্ধ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। শিশুসহ তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্টুডিওতে লাগানো এসিটি পুরোনো ছিল উল্লেখ করে এস এ শামীম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে রেজওয়ানুর ও তাঁর বন্ধু মাহিম স্টুডিওতে ঢুকে কি–বোর্ড অন করেন। এসির সুইচ অন করা মাত্রই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে রেজওয়ানুর ও মাহিম দগ্ধ হন। রেজওয়ানুরের শরীরের ৪৫ শতাংশ ও মাহিমের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। রেজওয়ানুর বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।