শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না : বিএনপিকে নাহিদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘কথা বলতে গেলে দমন-পীড়ন করা, আক্রমণ করা কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেওয়া—এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না। এগুলো বিগত আমলের পুরোনো কৌশল; শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ, শেখ হাসিনাকে কীভাবে হটানো হয়েছে, তা এ দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও জানে।’
আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আজ বেলা একটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন থেকে দেওয়া বিভিন্ন কড়া নির্দেশিকা বন্ধ করা উচিত। আমি কথা বলছি; আমার কথা পছন্দ না হলে আপনারা পাল্টা সমাবেশ করে কথা বলুন—এটাই গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই ঠিক করবে, তারা কোন সমাবেশে যাবে বা কাকে সমর্থন দেবে। কিন্তু কথা বলতে গেলে দমন-পীড়ন করা, আক্রমণ করা কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেওয়া—এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না। এগুলো বিগত আমলের পুরোনো কৌশল; শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ, শেখ হাসিনাকে কীভাবে হটানো হয়েছে, তা এ দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও জানে!
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যে ছেলেটির চোখ চলে গেছে, সে কী আপত্তিজনক বক্তব্য দিয়েছে, সেটা তারা তুলে ধরুক। বিগত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে অনলাইনে ‘আপত্তিজনক’, ‘উসকানিমূলক’, ‘কটূক্তিমূলক’ শব্দ ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক সমালোচনা বন্ধ করার একটি পাঁয়তারা। আপনারা কথার জবাব কথায় দেবেন—এটাই রাজনীতি, এটাই গণতন্ত্র।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বক্তব্য ঘিরে যে আলোচনা-সমালোচনা বা হামলার ঘটনা হচ্ছে—বিষয়টি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন একজন রাজনৈতিক নেতা—তাঁর কাজই হলো বিরোধী দলে থাকার সময় সরকারের সমালোচনা করা। এটাই তো গণতন্ত্র। তাঁর বক্তব্যের কোথাও যদি প্রচলিত আইন লঙ্ঘন হয় বা আইনের পরিপন্থী কিছু থাকে, তবে সেটা আইন দেখবে। সেটা দেখার দায়িত্ব কোনো ছাত্রসংগঠন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মী বা কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর নয়।’
বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের দাবিতে—অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করার বিষয়ে সব সময় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যখনই অন্যায় দেখবেন, রুখে দাঁড়াবেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি আবারও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আজ শাবিপ্রবিতে আমরা যখন ঢুকলাম, প্রশাসনের এত আয়োজন দেখলাম—মনে হচ্ছে বড় কোনো মারামারি লেগে যাবে। পুলিশ ও বিজিবি এনে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে এই সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে। যারা সন্ত্রাস করে, তাদের বিচারের আওতায় আনলে এত নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় না।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর দুটি এজেন্ডার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধান দুটি এজেন্ডা হলো বিচার এবং সংস্কার। আমরা বিচার চাই; কারণ, বিচারের মাধ্যমেই অতীত ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দমন ও ন্যায়বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। আর সংস্কারের মাধ্যমে নতুন করে কেউ যেন স্বৈরাচার বা নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিচার ও সংস্কার না হলে আজকে যারা ক্ষমতায় রয়েছে বা আগামীতে যারা আসবে, তারাও এই কাঠামোর সুবিধা নিয়ে নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদ ও দেশের জনগণের কাছে আমাদের অঙ্গীকার—আমরা পুরাতন ফ্যাসিস্ট ও সাম্রাজ্যবাদী কোনো শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সুযোগ দেব না। তারা ডিসেম্বরে আসবে নাকি কবে আসবে, ঢাকায় পা রাখলেই তা দেখা যাবে ইনশা আল্লাহ! আমরা সে জন্য প্রস্তুত আছি। আর নতুন করে কাউকেও আমরা স্বৈরাচারী হতে দেব না। আপনারা যত বাধাই দিন না কেন, সব বাধা আমরা অতিক্রম করবই, ইনশা আল্লাহ।’
আজকে একদম স্ট্রিক্টলি (শক্তভাবে) আমার ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি যাতে কোনো ব্যক্তির নাম পৃথিবীতে উচ্চারণ না করি। এগুলো নিয়ে আমি কথা না বলি। তবে আপনারা বুঝছেন কে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। তবে আপনারা এটা ছাড় দেবেন না।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক
অনুষ্ঠানে শাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী । তিনি বলেন, ‘বিয়ের কেনাকাটা শেষ হয়ে গেছে—মানে মেয়ে রাজি, ছেলেও রাজি, বিয়ে হবে। হুট করে রাতে খোঁজ এল যে কালকে বিয়ে হবে না। জাস্ট ইলেকশন হবে, সবকিছু হয়ে গেছে, এক ভিলেন এসে উপস্থিত হয়ে বলল ইলেকশন করতে দেব না । আপনারাও কেমন যেন ভিলেনটাকে ছেড়ে দিলেন। আজকে একদম স্ট্রিক্টলি (শক্তভাবে) আমার ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি যাতে কোনো ব্যক্তির নাম পৃথিবীতে উচ্চারণ না করি। এগুলো নিয়ে আমি কথা না বলি। তবে আপনারা বুঝছেন কে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। তবে আপনারা এটা ছাড় দেবেন না। ইলেকশনের সবকিছু প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। পুরো বাংলাদেশে কোথায় ইলেকশন হয়, এটা দেখার দরকার নেই। শাবিপ্রবিতে নিয়মিত ইলেকশন হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাশিদ আবরারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার, সাবেক সমন্বয়ক আবু সালেহ মো. নাসিম, শাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, ইনকলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার, শাবিপ্রবি ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব আবরার বিন সলিম, যুগ্ম সদস্যসচিব সাইফ মো. সাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাবিপ্রবি ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেন।