সৌদি আরব থেকে ফিরতেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার কুমিল্লার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

সৌদি থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হওয়া সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেই রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটক করে। এরপর তাঁকে বিমানবন্দর থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাদ্দাম হোসেন দেবীদ্বার উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাদ্দাম হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুদ্দিন ইলিয়াস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের থানা থেকে পুলিশের একটি দল বিমানবন্দর থানায় গেছে সাদ্দাম হোসেনকে আনার জন্য। আজ ভোরে ডিএমপির বিমানবন্দর থানা থেকে সাদ্দামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়। তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছিলেন। বিমানবন্দর থানা–পুলিশ তাঁকে আমাদের টিমের কাছে হস্তান্তর করলে সাদ্দামকে দেবীদ্বার থানায় আনা হবে। আগামীকাল বুধবার সকালে তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।’

থানা–পুলিশ জানায়, গত ৪ আগস্ট দেবীদ্বার সদরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন বাসচালক আবদুর রাজ্জাক ওরফে রুবেল। পেশায় বাসচালক হলেও তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন। এ ছাড়া ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দিন বিকেলে দেবীদ্বার সদরে সাব্বির হোসেন নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হন।

এ ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। সাব্বির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। এ দুটি হত্যা মামলাসহ সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ওসি সামছুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, চারটি মামলায় সাদ্দাম আসামি। সরকার পতনের পর থেকে বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।