নাটোরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে কবজি বিচ্ছিন্ন, আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
নাটোর শহরে মিঠুন আলী (৩৩) নামের এক যুবলীগ নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছে। জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক নান্নু শেখের লোকজন গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের বলারিপাড়া মহল্লায় যুবলীগ নেতা মিঠুনসহ সহযোগীদের ওপর এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিঠুন আলী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বলারিপাড়া মহল্লার সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তাঁকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। হামলায় আহত আরমান আলী (২৮), আবদুল্লাহ আল রাব্বি (২৭), বাবলু মিয়া (৩৬), সবুজ মিয়া (৩২), স্বপ্ন আলী (২২) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৫) সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নাটোর থানা-পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুবলীগ নেতা মিঠুন আলী ১০ থেকে ১২ জন সহযোগীকে নিয়ে ভবানীগঞ্জ মোড়ের আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে বলারিপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাস্তার গলিতে ওত পেতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত তাঁদের দিকে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। চোখে মরিচের গুঁড়া পড়ায় তাঁরা যখন ছটফট করছিলেন, তখন দুর্বৃত্তরা হাঁসুয়া দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে মিঠুনের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর মাথা, দুই হাত, দুই পা ও পিঠের নিচে গুরুতর জখম হয়। অন্যদেরও জখম হয়। আহত ব্যক্তিরা সড়কে পড়ে চিৎকার করতে থাকলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মিঠুন আলীকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা যুবলীগের সভাপতি বাশিরুর রহমান খান (এহিয়া চৌধুরী) বলেন, আহত ব্যক্তিরা নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের সমর্থক। হামলাকারী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু শেখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামের সমর্থক। এলাকার আধিপত্য নিয়ে তাঁদর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ১৬ এপ্রিল নান্নু শেখকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে মিঠুনসহ তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর পর থেকেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সবারই রাজনৈতিক নেতা। হামলাকারী ও আহত ব্যক্তিরা সবাই সন্ত্রাসী। পরস্পরের মধ্যে একাধিক সংঘাত হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে, এটাই আশা করছি।’
হামলার সময় যুবলীগ নেতা মিঠুন আলীর সঙ্গে থাকা আরমান আলী বলেন, নান্নু শেখকে আহত করার মামলার এক আসামি (মিঠুনের অনুসারী) গতকাল সন্ধ্যায় জামিনে ছাড়া পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষরা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক নান্নু শেখ বলেন, তিনি এ হামলার সঙ্গে জড়িত নন।
নাটোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার বলেন, আহত মিঠুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের অবস্থা স্বাভাবিক।
নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। তিনিসহ নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় সদর হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
হাসপাতালের পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, রাতের ঘটনা। কে কাকে কেন মেরেছে, তা তাৎক্ষণিক বলা মুশকিল। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।