স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইট-পাথরের বদলে মাটি দিয়ে দায়সারা কাজ করেছে ঠিকাদার ও প্রকৌশলী কার্যালয়। কাজে নানা অনিয়ম রয়েছে। জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে প্রকৌশলীরা বলছেন, সেতু নির্মাণে সড়ক সংস্কার ব্যয় ধরা ছিল না। ফলে এমন ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সড়ক সংস্কার করা হবে।

গত শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ওপর ও সেতুর দুই পাশে কাদামাটি। সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। জমে আছে বৃষ্টির পানি। পথচারীরা যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে চলাচল করছে। পণ্যবাহী প্রতিটি যানবাহন সেতুর পশ্চিম পাশের কাদামাটিতে আটকা পড়ছে। স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা আটকে পড়া যানবাহনগুলো ধাক্কা দিয়ে পার করছে। এ সময় আটকে পড়া একটি পণ্যবাহী নছিমনকে তুলতে অপর একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত গাড়িকে ধাক্কা দিতে দেখা যায়।

উপজেলার চাঁদপুর, বাগুলাট ও পান্টি ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। এ ছাড়া পাশের ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার একাংশের বাসিন্দারা কুষ্টিয়া শহরে যায় এ সড়ক দিয়ে। তাদের চলাচলের জন্য সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ছয় মাস আগে সড়কের কাঁচিকাটা এলাকায় সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হয়েছে মাটি দিয়ে। সেই মাটিতে বৃষ্টির পানি জমে কাদা হয়েছে। কাদায় যানবাহন আটকে যাচ্ছে, যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ আহত হচ্ছে, যানবাহন ও মালামাল নষ্ট। চরম ভোগান্তিতে চলাচল করছে মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পান্টি বাজার আরএইচডি সড়ক থেকে বাঁশগ্রাম বাজার জিসি সড়কের ৩ হাজার ৮০০ মিটার চেইনেজে (কাঁচিকাটা সেতু নামের স্থান) তিন মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বক্স সেতুর (কালভার্ট) অনুমোদন দেয় এলজিইডি। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮ লাখ ১২ হাজার ১৯৫ টাকা। ঠিকাদার ছিলেন জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুরের নজরুল ইসলাম। প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার। কিন্তু প্রকল্পের সঙ্গে সংযোগ সড়কের ব্যয় ধরা ছিল না। সে জন্য বালু, মাটি ও কিছু ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।

কাঁচিকাটা সেতুর পাশে স্কুলছাত্র রাজিবুল ইসলামের বাড়ি। সে বলে, ইটের বদলে মাটি দিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে। এখন বৃষ্টির পানিতে কাদামাটি তৈরি হয়ে চরম ভোগান্তি হচ্ছে মানুষের। প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে এ দুর্ভোগ।

সড়ক দিয়ে চলাচলকারী করিমনের (তিন চাকার যান) চালক মহব্বত আলী বলেন, ‘পান্টি বাজার থেকে পেঁয়াজ বোঝাই করে সদরে যাচ্ছি। সেতুর কাদায় গাড়ি আটকে গেছে। ১০-১২ জন মিলে গাড়ি তুলেছি। খুব সমস্যা হচ্ছে মানুষের।’

স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগের কথা শুনে সেতুর ওই স্থানে গিয়েছিলেন চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান তুষার। তিনি বলেন, ‘চরম জনদুর্ভোগ সেখানে। সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, সেতু নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ ব্যয় ধরা ছিল না। ফলে সংযোগ সড়ক সংস্কারে মাটি ব্যবহৃত হয়েছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন